সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে নতুন যাত্রা

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশের স্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ২১ জুন তিনি দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এই সফর শেষে তিনি সরাসরি চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে যাত্রা করবেন। চার দিনের চীন সফর শেষে ২৬ জুন তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।মালয়েশিয়া সফর: শ্রমবাজার ও আসিয়ান প্রেক্ষাপটমালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ২২ জুন একান্ত বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে।এই সফরকে গুরুত্ব দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি এবং শিক্ষা খাতের উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে। এছাড়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা হবে গুরুত্বের সঙ্গে। আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং আরসিইপি-তে (RCEP) যোগদানের বিষয়ে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বানও থাকবে এজেন্ডায়। সফরকালে সংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) ভিত্তি হিসেবে টার্মস অব রেফারেন্স বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে।চীন সফর: অর্থনৈতিক কূটনীতি ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্তমালয়েশিয়া সফর শেষে ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী চীনের দালিয়ানে ‘সামার দাভোস’ খ্যাত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) অংশ নেবেন। এই সফরে তার মূল লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা তুলে ধরা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো।চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে দালিয়ানে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ১৩তম বার্ষিক সভায় অংশ নেবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, ২৩ জুন বিকালে ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি। পাশাপাশি কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগবেইজিংয়ে অবস্থানকালে ২৫ জুন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ চীনা ব্যবসায়ীদের সামনে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে চীনের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) ও একটি প্রটোকলসহ প্রায় ১৭টি দলিল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।সফরের শেষ দিন ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা ইস্যুর পাশাপাশি কৌশলগত অংশীদারত্বের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বীর যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে ২৬ জুন বিকালে তার বেইজিং ত্যাগের কথা রয়েছে।পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই দুই দেশ সফর বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বিতর্কিত তিন ইউনিয়নের নাম বদলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, স্বস্তি এলাকাবাসীর মধ্যে

বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নামে গঠিত বিতর্কিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় নবগঠিত ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম বাতিলের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই খবরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও অস্বস্তি কেটে স্বস্তি ফিরে এসেছে।শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি সরকারি চিঠি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পৌঁছায়। বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ফোন করে তাকে নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণ করে এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে যেন ইউনিয়নগুলোর জন্য নতুন নাম প্রস্তাব করা হয়। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনকে দ্রুত গণশুনানি আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।সম্প্রতি শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলা পুনর্গঠনের সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলে ও পৈতৃক বাড়ির নামে এই ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করা হয়েছিল। এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর এক আত্মীয়ের নামে ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামেও একটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এসব নামকরণের খবর জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। এমনকি বিষয়টি জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গড়িয়েছিল।তবে সরকারি নতুন এই নির্দেশনায় ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়নটির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির জন্য প্রতিষ্ঠানের নামকরণ না করে এলাকার গৌরবময় ইতিহাসের প্রতিফলন ঘটে—এমন নামই রাখা হোক।এদিকে, নিজের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণের বিতর্কের রেশ না কাটতেই প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিজেই এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। গত ১ জুন তিনি শিক্ষা সচিবের কাছে ডিও লেটার পাঠিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই তার বা তার পরিবারের কারো নামে যেন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ না করা হয়।প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, তার অগোচরে বা অতি উৎসাহী মহলের স্বার্থসিদ্ধির কারণে এমন বিতর্কিত নামকরণের অপচেষ্টা করা হয়েছিল। শনিবার বিকেলে প্রতিমন্ত্রী জানান, ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের সরকারি সিদ্ধান্তের পর তিনি বিষয়টি নিয়ে আর কোনো বিতর্ক বা সমালোচনা চান না। প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে এলাকার মানুষ এখন ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক গুরুত্বের ভিত্তিতে ইউনিয়নগুলোর নতুন নামকরণের অপেক্ষায় আছেন।

প্রতিমন্ত্রীর নামেই স্কুলের নামকরণ নিয়ে বিতর্ক, নিজের নাম জড়াতে নারাজ মীর শাহে আলম

বগুড়ার শিবগঞ্জের ৫৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়’। এই নাম বদলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে প্রতিষ্ঠানটির নতুন নামকরণের আবেদন ঘিরে এলাকায় চলছে জোর বিতর্ক। একদিকে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ, অন্যদিকে সেই উদ্যোগ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিদ্যালয়টির অ্যাডহক কমিটি নাম পরিবর্তনের এই প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ও বগুড়ার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়।তবে নিজের নামে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি মোটেও ভালোভাবে নেননি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিষয়টি জানার পর ১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে তিনি একটি আধা সরকারি (ডিও) পত্র পাঠান। সেই পত্রে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তার অগোচরে বা স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় অনেকে তার নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন, যা তার কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি ঐতিহ্যবাহী কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের চেয়ে তার স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখাকেই অধিকতর সমীচীন বলে মনে করেন।প্রতিমন্ত্রী তার পত্রে আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অতীতে নিজের উদ্যোগে বা পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার বাইরে নিজের বা পরিবারের সদস্যদের নামে নতুন কোনো নামকরণের প্রস্তাব গ্রহণ না করার জন্য তিনি মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি অন্তত ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।অন্যদিকে, নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান জানান, স্থানীয় মরহুম রফিক উদ্দিন প্রামাণিক ও মরহুম মুছা চৌধুরীর মতো শিক্ষানুরাগীদের দান করা জমিতে গড়ে ওঠা এই স্কুলের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অতীতে অনেক সভাপতি আসলেও এমন নাম পরিবর্তনের চেষ্টা কেউ কখনো করেননি।বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম জানান, ৯২৪ জন শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে প্রতিমন্ত্রীর অবদান অনস্বীকার্য। তার প্রচেষ্টায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে এবং বর্তমানে স্কুলটি জাতীয়করণের প্রক্রিয়া চলছে। শিক্ষকদের দাবি, শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ ভূমিকার কারণে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এই নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।প্রধান শিক্ষক আরও দাবি করেছেন, প্রতিমন্ত্রীর আপত্তির কথা জানতে পেরে ১১ জুন মন্ত্রণালয়কে আরেকটি চিঠি দিয়ে এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে সেই চিঠির কোনো অনুলিপি এখনো জনসম্মুখে আসেনি।ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন হওয়া উচিত, নাকি দীর্ঘদিনের নাম ও সুনাম অটুট রাখা বাঞ্ছনীয়—এখন সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে।বগুড়ার শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য নাম পরিবর্তন না করে অন্য কোনোভাবে প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিকল্প কোনো উপায় কি থাকতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

লাইভ / ইরানের সঙ্গে বরফ গলছে যুক্তরাষ্ট্রের, সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনার টেবিলে ট্রাম্পের দূত

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় যখন বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কালো মেঘ জমেছিল, ঠিক তখনই কিছুটা স্বস্তির খবর নিয়ে এলো সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক। ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, শান্তি আলোচনার প্রথম পর্বে অংশ নিতে দেশটিতে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। দীর্ঘ উত্তেজনার পর দুই দেশের প্রতিনিধিদের এই মুখোমুখি বসার ঘটনাকে কূটনৈতিক মহলে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।এর আগে আলোচনার টেবিলে বসার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে হুট করেই তার সফর স্থগিত করা হয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান এবং নৃশংসতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ায় ভ্যান্স এই আলোচনা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। গত কয়েকদিন ধরে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যুসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও ইসরায়েলি বাহিনীর তৎপরতা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, যা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভঙ্গুর সমঝোতা চুক্তিকে ভেস্তে দেওয়ার উপক্রম করেছিল।তবে পরিস্থিতির মোড় ঘোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপে। এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি ইসরায়েলকে স্পষ্টভাবে বার্তা দিয়েছেন—মাঝেমধ্যে মাথা ঠান্ডা রেখে শান্ত হওয়া জরুরি। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির পথ প্রশস্ত হয়। লেবাননের স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল চারটা থেকে কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রাথমিক বাধা দূর হওয়ার বড় সূচক হিসেবে ধরা হচ্ছে।উল্লেখ্য, বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। সেই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে সামরিক সংঘাত বন্ধ করা। লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বেপরোয়া আচরণ সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় শান্তি আলোচনার পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডে স্টিভ উইটকফ মূলত ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে চূড়ান্ত সমঝোতার ভিত্তি স্থাপনে কাজ শুরু করেছেন। যদিও ইসরায়েলের কট্টরপন্থি অংশটি এই শান্তি প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে তৎপর ছিল, তবুও বর্তমান যুদ্ধবিরতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের এই বৈরিতা কাটিয়ে দুই পক্ষ টেকসই কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে কি না।

তিস্তায় নতুন ব্যারেজ: সংসদে বড় প্রকল্পের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মেটাতে নতুন আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, তিস্তায় পানি সংরক্ষণের জন্য আরও একটি ব্যারেজ নির্মাণের কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী জানান, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক একটি বড় মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ১১০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং ১৭০ বর্গ কিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের কাজ করার প্রস্তাব রয়েছে।স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের একটি পূর্ণাঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের কাজ চলছে। তিনি জানান, দেশের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় ৬ হাজার ৩৫৯টি পদ খালি রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব শূন্যপদ পূরণে সরকার কাজ করছে। হামের প্রাদুর্ভাব রোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকারের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকার ওপর চাপ কমাতে রিং রোড, রেডিয়াল নেটওয়ার্ক এবং যানজট নিরসনে বিভিন্ন ইন্টারসেকশনে প্রয়োজনীয় স্ট্রাকচার তৈরি করা হবে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা-আশুলিয়া ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলপথে যাতায়াত নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করতে প্রধান রুটগুলোতে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে সব বিভাগীয় শহরে ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ভূ-উপরিস্থ বা নদী-জলাধারের পানির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে।হজযাত্রীদের জন্য সুখবর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী বছরগুলোতে হজের খরচ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ২০২৬ সালে হজের খরচ কমানোর ইতিবাচক প্রভাব হজযাত্রীরা পেয়েছেন। ২০২৭ সালের প্যাকেজ মূল্য যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের জন্য সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। এছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে আরও গতিশীল করার ওপরও জোর দেন সরকারপ্রধান।

ফখরুল ইসলাম রাজীব

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন গুঞ্জন: বাস্তবতা ও রাজনৈতিক প্রচারণার গোলকধাঁধা

গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর চার মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির মূলধারায় ফিরে আসার বিষয়টি এখন আলোচনার টেবিলে উঠে এসেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং রাজনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ বলছে, এসব আলোচনার বড় অংশই নিছক গুঞ্জন বা এক ধরনের রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের প্রতিফলন। বর্তমান বাংলাদেশে যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তাতে শেখ হাসিনার ফিরে আসার সম্ভাবনা তাত্ত্বিকভাবে যতটা আলোচিত, প্রায়োগিকভাবে তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও অনিশ্চিত।ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ক্ষমতার দম্ভে থাকা স্বৈরশাসক বা দীর্ঘমেয়াদী শাসকরা যখন ক্ষমতাচ্যুত হন, তখন তাদের প্রত্যাবর্তনের পথ সাধারণত কণ্টকাকীর্ণ থাকে। ফিলিপাইনের ফার্দিনান্দ মার্কোস বা থাইল্যান্ডের থাকসিন সিনাওয়াত্রার দিকে তাকালে আমরা একধরনের তুলনামূলক চিত্র পাই। থাকসিন সিনাওয়াত্রা দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছিলেন, কিন্তু তার জন্য দীর্ঘ আইনি লড়াই ও সমঝোতার এক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল। অন্যদিকে, গণ-অভ্যুত্থানে চূর্ণ হওয়া শাসনের পর শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেনি, বরং গত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ভেতরে এক গভীর ক্ষোভ ও বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। ফলে এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক রদবদল নয়, বরং একটি নতুন রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা।আমাদের দেশের আজকের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে শেখ হাসিনার ফিরে আসার গুঞ্জনটি মূলত প্রচারণার অংশ বলে মনে করছেন অধিকাংশ বিশ্লেষক। সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের মতে, অপরাধ ও দুর্নীতির দায়মুক্তির কোনো সুযোগ এখানে নেই। তার ভাষ্যমতে, গণতন্ত্রের নামে কোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি এদেশের মানুষ আর চায় না। ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতে চলে, আর বর্তমান সময়ে সেই ইতিহাস জনমতের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভেতরে যে আত্মসমালোচনার অভাব, তা তাদের জনগণের থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। দলটি যদি তাদের অতীতের ভুলগুলো স্বীকার করে নতুনভাবে সামনে আসতে পারত, তবে হয়তো ভিন্ন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হতো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জনগণ সেই পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখছে না।বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র চার মাস। এই সময়ের মধ্যে সরকার সব আশা পূরণ করতে না পারলেও, হাসিনাবিরোধী জনমত ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলো এখনো অটুট আছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার ফেরা মানেই হলো দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া। তিনি ফিরলে তাকে আইনি কাঠামোর ভেতর দিয়ে যেতেই হবে। এখানে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে জবাবদিহিতার বিষয়টিই মুখ্য। সুতরাং, যারা ভাবছেন যে রাজনীতির স্বাভাবিক ধারায় তিনি বা তার দল খুব সহজেই ফিরে আসবে, তারা হয়তো দেশের বর্তমান গভীর রাজনৈতিক পরিবর্তনকে পুরোপুরি অনুধাবন করছেন না।তবে এর অর্থ এই নয় যে, আওয়ামী লীগ চিরতরে রাজনীতির মাঠ থেকে মুছে যাবে। একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও তৃণমূলের অস্তিত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ যেমনটি মনে করেন, কোনো দল নিষিদ্ধ বা কোণঠাসা থাকলেই রাজনীতি থেকে হারিয়ে যায় না, তবে তাদের ফেরার পথটি কঠিন হতে হবে তাদের নিজের অতীতের কাজের বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে। জনগণ কোনো রাজনৈতিক শূন্যতা এখন আর দেখছে না, বরং তারা দেখছে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার এক কঠিন লড়াই।আমরা যদি এই পরিস্থিতির একটি টেকসই সমাধান খুঁজতে চাই, তবে প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে আইনের শাসন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনের ঊর্ধ্বে নয়—এই সত্যটি প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভিত্তি মজবুত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার প্রয়োজন। আওয়ামী লীগসহ যেকোনো বড় দলকে ফিরতে হলে অবশ্যই নতুন ও স্বচ্ছ নেতৃত্বের উত্থান ঘটাতে হবে, যারা অতীতের ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিশীলিত রাজনীতি চর্চা করবে। তৃতীয়ত, বর্তমান সরকারকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা রোধে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই সন্ধিক্ষণে অস্থিরতা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় কূটনৈতিক ও আইনি সক্ষমতা বাড়াতে হবে।পরিশেষে একটি কথাই বলা প্রয়োজন, রাজনীতির মাঠ কখনো খালি থাকে না। কিন্তু সেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে হয়। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা যদি কেবল প্রোপাগান্ডা বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কৌশল হয়, তবে তা ব্যর্থ হতে বাধ্য। দেশের মানুষ এখন জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে এই স্বপ্ন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য জনগণের অবিচল সংকল্প। ইতিহাসের এই বাঁকবদলে ব্যক্তি বা দলের চেয়ে রাষ্ট্রের সুরক্ষা এবং জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই হবে আগামীর মূল চালিকাশক্তি।

ফখরুল ইসলাম রাজীব

প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন না-কি কূটনৈতিক ভারসাম্য কোনটিকে প্রাধান্য দিবেন?

একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তার জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রধান ভিত্তি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক মহলে এবং জনমনে চীনের সাথে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক চুক্তির যে আলোচনা গুরুত্ব পেয়েছে, তা রাষ্ট্রের কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধিরই ইঙ্গিতবহ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে কেন্দ্র করে কেবল সামরিক সরঞ্জামের আধুনিকায়ন নয়, বরং বৃহত্তর ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো দেশই এককভাবে কোনো শক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে টিকে থাকতে পারে না; বরং বহুমুখী সম্পর্ক ও কৌশলগত স্বনির্ভরতাই একটি জাতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্মানজনক স্থান করে দেয়।বাংলাদেশের বিমানবাহিনী ও প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়ন সময়ের দাবি। আধুনিক যুদ্ধবিমানের মতো স্পর্শকাতর প্রতিরক্ষা সামগ্রী সংগ্রহের ক্ষেত্রে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি ও সক্ষমতা যাচাই করা একান্ত জরুরি। চীন সফরকালে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বা জে-১০ সিই-এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের আলোচনা যদি চূড়ান্ত হয়, তবে তা বাংলাদেশের আকাশ সীমার সুরক্ষায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে গণ্য হবে। তবে প্রতিরক্ষা কেনাকাটার ক্ষেত্রে আমাদের কেবল সাময়িক সামরিক শক্তির দিকে তাকালে চলবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ এবং নিজস্ব জনশক্তির সক্ষমতা তৈরির দিকেও মনোনিবেশ করতে হবে। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে প্রতিটি দেশের নিজস্ব কৌশলী অবস্থান থাকে এবং বাংলাদেশ সেই বাজারে নিজের জায়গা তৈরি করার সময় নিজেদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই দর কষাকষি করবে—এমনটাই প্রত্যাশা।তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বড় ধরনের অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ভারত ও চীন—উভয় দেশের সাথেই বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্কগুলো হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তিতে। কোনো রাষ্ট্রের প্রতি দাসত্ব বা অন্ধ আনুগত্য যেমন কাঙ্ক্ষিত নয়, তেমনি কোনো রাষ্ট্রের সাথে শত্রুতা তৈরি করাও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। বাংলাদেশ যদি তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে চায়, তবে তা হওয়া উচিত নিজের সুরক্ষার জন্য, অন্য কাউকে উত্তেজিত করার জন্য নয়। কূটনৈতিক পরিপক্বতা সেখানেই, যেখানে রাষ্ট্র তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বজায় রেখে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা যেকোনো সফল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পূর্বশর্ত। যখন একটি রাষ্ট্র বড় কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির পথে এগোয়, তখন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উস্কানিমূলক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়া বা জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা হওয়াটা রাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক সময়ে মন্দিরের সুরক্ষা বা ধর্মীয় সংবেদনশীলতা নিয়ে যেসব উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে, তা দেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষার এই ক্রান্তিলগ্নে সব রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ মানুষের উচিত রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে রাখা। ষড়যন্ত্র বা উস্কানির কাছে মাথানত না করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর যদি সত্যিই বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় কোনো মাইলফলক হয়ে ওঠে, তবে তা হবে দেশের জন্য ইতিবাচক। তবে এই সফলতা কেবল চুক্তিতে সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না, এর মাধ্যমে অর্জিত প্রযুক্তি ও কৌশল দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কতটা শক্তিশালী করল, তা-ই হবে আসল মাপকাঠি। ভারতের সাথে সম্পর্কের সমীকরণেও বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্বের জায়গাটি অটুট রাখবে—এটাই জনগণের আকাঙ্ক্ষা। ভারত, চীন বা অন্য যেকোনো বিশ্বশক্তির সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করে নিজস্ব উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়াই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত ও বাস্তবসম্মত পথ। জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির স্বার্থে এখন আমাদের কূটনৈতিক বিচক্ষণতা ও ধৈর্যের পরিচয় দেওয়ার সময়।

ফখরুল ইসলাম রাজীব

হরিদাসের মূর্তির আড়ালে কি কোনো গোপন ভূ-রাজনৈতিক চাল চেলেছে আধিপত্যবাদী প্রতিবেশী?

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে যে বিশাল মূর্তিগুলো তৈরি হচ্ছে, সেগুলোকে ওপর থেকে দেখলে মনে হতে পারে নিতান্তই ধর্মীয় শিল্পকর্ম। কিন্তু আপনি যদি সাম্প্রতিক  ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহ মাথায় রেখে চোখ একটু বড় করে তাকান, তবে দেখবেন গ্রামের এই  সাধারণ ভূমিকে ঘিরে যেন কোনো পুরোনো মানচিত্র আবার নতুন করে আঁকা হচ্ছে। এঙ্গি মুর্তি কেবল ইট-পাথর বা সিমেন্টের কাঠামো নয় বরং এটা একটা টোপ। আমাদের এই বর্ডার বেল্ট বা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় যখন কোনো পক্ষ হঠাৎ করেই এমন বিশাল স্থাপনা তৈরি করে, তখন ভূ-রাজনীতির ব্যাকরণ বলে দেয়—এর পেছনে কেবল ভক্তি নেই, আছে অন্য কোনো হিসাব।এই গল্পটা শুরু হয়েছিল একজন এসি মেকানিককে কেন্দ্র করে। নাম তার হরিদাস চন্দ্র তরণী। সিনেমার গল্পের মতো তার উত্থান। এক সময় গণভবনের অন্দরে তার অবাধ যাতায়াত ছিল। কেন? কারণ ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে যারা থাকেন, তাদের আশেপাশে এমন কিছু মানুষ প্রয়োজন হয় যারা সবসময় ‘কাজের’ কথা শোনে না, কিন্তু ‘কাজ’ হাসিল করে দেয়।হরিদাস এক সময় অনেকের কর্ম হাসিলের মাধ্যম হয়ে উঠেন। হরিদাস যখন গণভবনে যাতায়াত করতেন, তখন তিনি হয়তো জানতেন না যে ভবিষ্যতে এই অভিজ্ঞতা তাকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। শেখ সেলিমের মতো নেতাদের সাথে তার লেনদেন আর বিরোধের খবর যখন সামনে আসে, তখন বোঝা যায়, তিনি কতটা অসাধারণ হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ছিলেন এমন এক সুতো, যা দিয়ে ক্ষমতার বড় বড় লবিং কাজ করতো।এখন প্রশ্ন হলো, একজন এসি মেকানিক কেন গাইবান্ধার মতো একটা জায়গায় ১৭ কোটি টাকা খরচ করে মূর্তি বানাচ্ছেন? ভূ-রাজনীতির ভাষায় এটাকে বলে ‘সফট পাওয়ার’ বা নরম শক্তি প্রয়োগ। আপনি যখন কোনো জায়গায় বিশাল কোনো চিহ্ন স্থাপন করেন, তখন সেটা ওই এলাকার ভৌগোলিক স্বকীয়তাকে বদলে দেয়। এটাকে বলা হয় ‘টেরিটোরিয়াল মার্কিং’। প্রতিবেশী দেশ ভারত যখন সীমান্তে নানামুখী চাপ তৈরি করে, যখন খবর আসে সীমান্তে পুশ-ইনের—তখন এমন একটি জায়গা তৈরি করা কি নিছক কাকতালীয়? মনে হচ্ছে, এটি একটি ‘ট্রোজান হর্স’ কৌশলের প্রথম ধাপ। ভেতর থেকে জায়গাটা দখল করে ফেলা, যাতে ভবিষ্যতে ওই এলাকাকে কেন্দ্র করে অন্য কোনো অশুভ ছায়া খেলা চালাতে পারে।গোয়েন্দা মহলে গুঞ্জন আছে, হরিদাসের সাথে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। তিন ভাই ভারতে থাকে, নিয়মিত বৈঠক হয়—এগুলো কি কেবল পারিবারিক সম্পর্ক? একজন মেকানিক কেন সবজি ব্যবসায় পাঁচ কোটি টাকা আয় দেখাবেন? আসলে এগুলো হলো মানি লন্ডারিংয়ের পুরনো কায়দা। টাকা আসছে বিদেশ থেকে, গন্তব্য গাইবান্ধা। তারা এমন এক দুর্গ বানাচ্ছে যার চারপাশ সিসি ক্যামেরায় ঘেরা। কেন? একটা উপাসনালয়ে এত কড়া পাহারা কেন থাকে? এর মানে হলো, ভেতরে যা ঘটছে, তা বাইরের পৃথিবীর মানুষের দেখার অধিকার নেই। এখানে কেবল উপাসনা হয় না, এখানে হয়তো তৈরি হচ্ছে নতুন কোনো ‘অপারেশন থিয়েটার’।আরেকটা বিষয় খেয়াল করবেন, পলাশবাড়ীর এই মূর্তিগুলো ঠিক এমন জায়গায় বসানো হয়েছে যা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সাথে খুব কাছাকাছি। মানে, এখান থেকে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নজর রাখা খুব সহজ। যারা সীমান্তে অস্থিরতা তৈরি করতে চায়, তারা সবসময় এমন কিছু স্পট খোঁজে যা থেকে সহজে পালানো যায় আবার সহজে নিয়ন্ত্রণও নেওয়া যায়। পুশ-ইনের মাধ্যমে যখন মানুষ পাঠানো হচ্ছে, তখন এই মূর্তিগুলো কি সেই মানুষের জন্য ল্যান্ডমার্ক বা দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করছে? অথবা এগুলো কি এমন কোনো নেটওয়ার্কের অংশ যা আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি?আমরা যখন এসব কথা বলি, অনেকে বলেন আমরা বেশি ষড়যন্ত্র খুঁজি। কিন্তু ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিশ্বের অনেক দেশে এমন ছোটখাটো ‘সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ বা ‘মন্দির’ আড়ালে আসলে ফরওয়ার্ড অপারেটিং বেস বা গোয়েন্দা ঘাঁটি হিসেবে কাজ করেছে। ভারত যদি সত্যি বাংলাদেশের বন্ধু হয়, তবে তারা কেন একটি ছোট দেশের ভেতরে এভাবে ধর্মীয় উস্কানির আড়ালে আধিপত্য বিস্তার করতে চায়? এই মূর্তিগুলো কি শান্তির প্রতীক, নাকি আগ্রাসনের নতুন কোনো সংস্করণ?দিনশেষে বড় প্রশ্নটা হলো—হরিদাস একা এটা করছেন না। তার পেছনে আছে এক বিশাল নেটওয়ার্ক। সেই নেটওয়ার্কের সুতো কি আমাদের সীমান্তের ওপারের ক্ষমতার শিরা -উপশিরাতে গিয়ে মিশেছে? যদি তাই হয়, তবে আমাদের সাবধান হওয়ার সময় এসেছে। কারণ বন্ধুত্বের নামে যখন কেউ আমাদের আঙিনায় দুর্গ বানায়, তখন সেই দুর্গ একদিন আমাদেরই বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে। আর হরিদাসরা তখন হয়তো আর থাকবে না, রেখে যাবে এক জটিল রাজনৈতিক সংকট, যার দাম দেবে সাধারণ মানুষ। 

ফখরুল ইসলাম রাজীব

তথ্য উপদেষ্টার ‘অদ্ভুত’ ভূগোল: পুশইন কি আসলেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়?

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যবই বা ভূগোলের মানচিত্র—যেখান থেকেই দেখা হোক না কেন, সার্বভৌমত্বের একটি নির্দিষ্ট সীমানা থাকে। কিন্তু সম্প্রতি তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহিদের একটি বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, তিনি বোধহয় আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এমন এক নতুন সংজ্ঞায় পৌঁছেছেন, যা সাধারণ মানুষের বোধগম্যতার বাইরে। বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে নাগরিকদের পুশইন বা ঠেলে পাঠানোর ঘটনাকে তিনি দিব্যি বলে দিলেন ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’। একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন একটি বক্তব্য কীভাবে দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে এখন জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে।সহজ কথায় বিষয়টি বিশ্লেষণ করা যাক। পুশইন মানে হলো অন্য রাষ্ট্র থেকে জোর করে মানুষ বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া। এখন যে ব্যক্তিটি সীমান্ত পেরিয়ে এপারে আসছেন, তিনি তো আর জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক নন, কিংবা ভোটার তালিকার কোনো নামও নন। তিনি আসছেন অন্য দেশ থেকে, ঠেলে দেওয়া হচ্ছে অন্য দেশ থেকে। তাহলে এটি কীভাবে সংশ্লিষ্ট দেশের ‘অভ্যন্তরীণ’ বিষয় হয়?রাষ্ট্রের সীমান্ত কোনো খোলা ডাস্টবিন নয় যে, প্রতিবেশী চাইলেই সেখানে যা ইচ্ছা পাঠিয়ে দেবে। এটি একটি সার্বভৌম ভূখণ্ড। ড. জাহিদ সাহেবকে যদি আমরা একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে বোঝাই—ধরুন, আপনার ড্রয়িংরুমে কোনো প্রতিবেশী এসে অনধিকার প্রবেশ করে কোনো কিছু রেখে গেল। আপনি কি তাকে বলতে পারবেন এটা আপনার ‘অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা অভিযান’? নিশ্চয়ই না। এটা বরং একটি অনধিকার চর্চা, যা রাষ্ট্রের মানচিত্র ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।তথ্য উপদেষ্টা দেশের এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, যার কাছ থেকে জনগণ সঠিক তথ্য ও স্পষ্ট অবস্থানের আশা করে। ‘পুশইন’ শব্দটি কেবল একটি শব্দ নয়, এটি হাজারো মানুষের ভাগ্য, দেশের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি জটিল সমীকরণ। এ নিয়ে যখন কোনো সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তি এমন অদ্ভুত যুক্তি দেন, তখন সেটি জনগণের কাছে কেবল রসিকতা হিসেবেই ধরা দেয় না, বরং রাষ্ট্রের অসহায়ত্বকেও ফুটিয়ে তোলে।রাষ্ট্রের কোনো নীতিনির্ধারণী পদে বসে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া মানে হলো নিজের দায়িত্ববোধ সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করা। একজন তথ্য উপদেষ্টার কাছে জনগণের প্রত্যাশা থাকে স্বচ্ছ ও দূরদর্শী ভাষ্য। পুশইনের মতো একটি জাতীয় ও নিরাপত্তা ইস্যুকে ‘অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের সীমান্ত রক্ষা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা সরকারগুলোর মৌলিক দায়িত্ব। এ জায়গায় নমনীয়তা বা ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই।আমরা আশা করি, তথ্য উপদেষ্টা মহোদয় তার বক্তব্যের দায়বদ্ধতা বুঝবেন এবং আগামীতে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অবস্থান ও মর্যাদার কথা মাথায় রাখবেন। কারণ, রাষ্ট্রের তথ্য আর জনগণের তথ্যের মধ্যে যে বড় একটি ফারাক থাকে, তা যেন কোনোভাবেই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের চোরাবালিতে হারিয়ে না যায়। রাষ্ট্রের সীমান্ত রক্ষায় ও কূটনীতিতে কৌশলী ও স্পষ্টবাদী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নামছে ১৮ হাজার পুলিশ, চেকপোস্ট ২০০

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আগামী ২৩ জুনের কর্মসূচিকে ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঢাকাজুড়ে ১৮ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মহানগরের কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ ২০০টিরও বেশি পয়েন্টে বিশেষ পিকেট, তল্লাশি চৌকি (চেকপোস্ট) এবং গোয়েন্দা নজরদারির নিশ্ছিদ্র বলয় তৈরি করা হয়েছে।রবিবার (২১ জুন) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নিটোল নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।ডিএমপি জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আড়ালে যাতে কেউ কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সেজন্যই এই বহুমাত্রিক আগাম ব্যবস্থা। রাজধানীর ২০০টিরও বেশি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক চেকপোস্ট ও পিকেট ডিউটি কাজ করবে। বিশেষ করে ঢাকার সবকটি প্রবেশপথে জোরদার করা হচ্ছে কড়া তল্লাশি ব্যবস্থা, যাতে বাইরে থেকে এসে কেউ মহানগরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায়।মাঠপর্যায়ের এই নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি মাঠে নামানো হচ্ছে ডিএমপির সবকটি বিশেষায়িত উইং। এর মধ্যে ডিবি (গোয়েন্দা শাখা), সিটিটিসি (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম), এসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) এবং আইএডি (ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন) সমন্বিতভাবে পুরো ঢাকার ওপর কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি চালাবে।যেকোনো আকস্মিক বা জরুরি পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে মোকাবিলা করার জন্য রাজধানীর স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। এছাড়া ডিএমপির প্রধান চারটি কন্ট্রোল রুমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ‘রিজার্ভ ফোর্স’ স্ট্যান্ডবাই বা প্রস্তুত রাখা থাকবে, যাতে প্রয়োজন হওয়ামাত্রই দ্রুত অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা যায়। ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেরা মাঠে থেকে এই বিশাল নিরাপত্তা কর্মযজ্ঞ তদারকি করবেন।এদিকে, এই নিরাপত্তা বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি চলতি জুন মাসে রাজধানীতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের একটি খতিয়ানও তুলে ধরেছে ডিএমপি। সরকারি তথ্যমতে, ১ থেকে ২০ জুনের মধ্যে মহানগরের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে রাজনৈতিক মামলায় ৮২ জন এবং ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতির সময় হাতেনাতে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।রাজনৈতিক মামলার পাশাপাশি সাধারণ অপরাধ দমনেও পুলিশের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এই ২০ দিনে চুরির ঘটনায় ১২১ জন, দস্যুতার অভিযোগে ১১৩ জন এবং ডাকাতি মামলায় ১২০ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া ডিএমপির থানা ও সিটিটিসির চিরুনি অভিযানে এই মাসে এ পর্যন্ত ৫৫ জন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে চারজন পুলিশের তালিকাভুক্ত দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজ।ডিএমপির পক্ষ থেকে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, রাজধানীর শান্তি, স্থায়িত্ব ও জননিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো মূল্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন গুঞ্জন: বাস্তবতা ও রাজনৈতিক প্রচারণার গোলকধাঁধা

গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর চার মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির মূলধারায় ফিরে আসার বিষয়টি এখন আলোচনার টেবিলে উঠে এসেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং রাজনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ বলছে, এসব আলোচনার বড় অংশই নিছক গুঞ্জন বা এক ধরনের রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের প্রতিফলন। বর্তমান বাংলাদেশে যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তাতে শেখ হাসিনার ফিরে আসার সম্ভাবনা তাত্ত্বিকভাবে যতটা আলোচিত, প্রায়োগিকভাবে তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও অনিশ্চিত।ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ক্ষমতার দম্ভে থাকা স্বৈরশাসক বা দীর্ঘমেয়াদী শাসকরা যখন ক্ষমতাচ্যুত হন, তখন তাদের প্রত্যাবর্তনের পথ সাধারণত কণ্টকাকীর্ণ থাকে। ফিলিপাইনের ফার্দিনান্দ মার্কোস বা থাইল্যান্ডের থাকসিন সিনাওয়াত্রার দিকে তাকালে আমরা একধরনের তুলনামূলক চিত্র পাই। থাকসিন সিনাওয়াত্রা দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছিলেন, কিন্তু তার জন্য দীর্ঘ আইনি লড়াই ও সমঝোতার এক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল। অন্যদিকে, গণ-অভ্যুত্থানে চূর্ণ হওয়া শাসনের পর শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেনি, বরং গত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ভেতরে এক গভীর ক্ষোভ ও বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। ফলে এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক রদবদল নয়, বরং একটি নতুন রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা।আমাদের দেশের আজকের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে শেখ হাসিনার ফিরে আসার গুঞ্জনটি মূলত প্রচারণার অংশ বলে মনে করছেন অধিকাংশ বিশ্লেষক। সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের মতে, অপরাধ ও দুর্নীতির দায়মুক্তির কোনো সুযোগ এখানে নেই। তার ভাষ্যমতে, গণতন্ত্রের নামে কোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি এদেশের মানুষ আর চায় না। ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতে চলে, আর বর্তমান সময়ে সেই ইতিহাস জনমতের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভেতরে যে আত্মসমালোচনার অভাব, তা তাদের জনগণের থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। দলটি যদি তাদের অতীতের ভুলগুলো স্বীকার করে নতুনভাবে সামনে আসতে পারত, তবে হয়তো ভিন্ন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হতো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জনগণ সেই পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখছে না।বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র চার মাস। এই সময়ের মধ্যে সরকার সব আশা পূরণ করতে না পারলেও, হাসিনাবিরোধী জনমত ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলো এখনো অটুট আছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার ফেরা মানেই হলো দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া। তিনি ফিরলে তাকে আইনি কাঠামোর ভেতর দিয়ে যেতেই হবে। এখানে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে জবাবদিহিতার বিষয়টিই মুখ্য। সুতরাং, যারা ভাবছেন যে রাজনীতির স্বাভাবিক ধারায় তিনি বা তার দল খুব সহজেই ফিরে আসবে, তারা হয়তো দেশের বর্তমান গভীর রাজনৈতিক পরিবর্তনকে পুরোপুরি অনুধাবন করছেন না।তবে এর অর্থ এই নয় যে, আওয়ামী লীগ চিরতরে রাজনীতির মাঠ থেকে মুছে যাবে। একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও তৃণমূলের অস্তিত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ যেমনটি মনে করেন, কোনো দল নিষিদ্ধ বা কোণঠাসা থাকলেই রাজনীতি থেকে হারিয়ে যায় না, তবে তাদের ফেরার পথটি কঠিন হতে হবে তাদের নিজের অতীতের কাজের বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে। জনগণ কোনো রাজনৈতিক শূন্যতা এখন আর দেখছে না, বরং তারা দেখছে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার এক কঠিন লড়াই।আমরা যদি এই পরিস্থিতির একটি টেকসই সমাধান খুঁজতে চাই, তবে প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে আইনের শাসন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনের ঊর্ধ্বে নয়—এই সত্যটি প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভিত্তি মজবুত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার প্রয়োজন। আওয়ামী লীগসহ যেকোনো বড় দলকে ফিরতে হলে অবশ্যই নতুন ও স্বচ্ছ নেতৃত্বের উত্থান ঘটাতে হবে, যারা অতীতের ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিশীলিত রাজনীতি চর্চা করবে। তৃতীয়ত, বর্তমান সরকারকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা রোধে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই সন্ধিক্ষণে অস্থিরতা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় কূটনৈতিক ও আইনি সক্ষমতা বাড়াতে হবে।পরিশেষে একটি কথাই বলা প্রয়োজন, রাজনীতির মাঠ কখনো খালি থাকে না। কিন্তু সেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে হয়। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা যদি কেবল প্রোপাগান্ডা বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কৌশল হয়, তবে তা ব্যর্থ হতে বাধ্য। দেশের মানুষ এখন জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে এই স্বপ্ন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য জনগণের অবিচল সংকল্প। ইতিহাসের এই বাঁকবদলে ব্যক্তি বা দলের চেয়ে রাষ্ট্রের সুরক্ষা এবং জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই হবে আগামীর মূল চালিকাশক্তি।

লাইভ / নেতানিয়াহু কি তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চুক্তি ভেস্তে দিচ্ছেন?

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় নতুন করে আলোচনার টেবিলে উঠে এসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অন্তর্বর্তী সমঝোতা চুক্তি। কিন্তু এই কূটনৈতিক সাফল্য এখন চরম হুমকির মুখে, যার নেপথ্যে রয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু এমন এক নেতা যার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, অথচ তার হাতে রয়েছে এক শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। এই সমীকরণই তাকে বর্তমান ভূ-রাজনীতির অন্যতম ‘স্পয়লার’ বা চুক্তি বিনষ্টকারী হিসেবে গড়ে তুলেছে।চুক্তির অনিশ্চয়তা ও নেতানিয়াহুর একগুঁয়েমিওয়াশিংটন ও তেহরান চুক্তিতে সই করলেও ইসরায়েল এই চুক্তির অংশ নয়। নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই শর্ত মানতে বাধ্য নন। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘোষণা করেছেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় আইডিএফ কোনো সময়সীমা ছাড়াই অবস্থান করবে। এই অবস্থানের ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও এখন বড় পরীক্ষার মুখে।রাজনৈতিক অস্তিত্বের লড়াই ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণনেতানিয়াহুর এই কঠোর অবস্থানের পেছনে রয়েছে নিজস্ব রাজনৈতিক দুর্বলতা। ইরান যুদ্ধে প্রত্যাশিত সাফল্য না মেলায় এবং দুর্নীতির মামলার চাপে থাকা নেতানিয়াহু এখন চরমপন্থীদের সমর্থনের ওপর টিকে আছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্ত মেনে নেওয়া তার জন্য ‘রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী’ হতে পারে, কারণ এতে ইসরায়েলি নিরাপত্তার জন্য দৃশ্যমান কোনো সাফল্য মিলছে না।ওয়াশিংটন-তেল আবিব সম্পর্কের বৈপরীত্যযুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে অঢেল অস্ত্র ও কূটনৈতিক সুরক্ষা দিলেও, তেল আবিবকে শর্ত মানাতে ওয়াশিংটন হিমশিম খাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কাঠামো—বিশেষ করে প্রভাবশালী দাতা গোষ্ঠী ও লবিস্টদের কারণে নেতানিয়াহু এমন এক স্বাধীনতা ভোগ করছেন যা অন্য কোনো মিত্র রাষ্ট্রের জন্য প্রায় অসম্ভব।নেতানিয়াহুর কৌশল: ‘নিঃশব্দে’ চুক্তি নস্যাৎনেতানিয়াহুর একটি সুনিপুণ কৌশল রয়েছে। তিনি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান না করেও লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে ইরানকে যুদ্ধের দিকে টেনে নিচ্ছেন। তেহরানের আলোচকরা স্পষ্ট করেছেন, লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার এই চুক্তির মূল চেতনার অংশ। এখন ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর ক্ষয়ক্ষতি বাড়লে এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে থামাতে ব্যর্থ হয়, তবে ইরান এই ভঙ্গুর চুক্তি থেকে সরে আসবে। অর্থাৎ, কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা ছাড়াই কেবল সামরিক অভিযান চালিয়ে নেতানিয়াহু পুরো শান্তিচক্রটি ভেঙে দেওয়ার পথে হাঁটছেন।মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির সারমর্ম হলো, যে পক্ষ চুক্তিতে সই করেনি, তাদের নীরবতা বা অসহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কোনো শান্তিচুক্তিই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। ট্রাম্প প্রশাসন যেখানে অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে দ্রুত সংঘাত থামাতে চাইছে, সেখানে নেতানিয়াহু মনে করছেন সামরিক লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ থামানো ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। এই দুই ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গির দ্বন্দ্বে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি এখন এক চরম অনিশ্চিত ও ভঙ্গুর অবস্থায় উপনীত হয়েছে।এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শান্তি প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কূটনৈতিক কৌশল কী হবে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন না-কি কূটনৈতিক ভারসাম্য কোনটিকে প্রাধান্য দিবেন?

একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তার জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রধান ভিত্তি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক মহলে এবং জনমনে চীনের সাথে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক চুক্তির যে আলোচনা গুরুত্ব পেয়েছে, তা রাষ্ট্রের কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধিরই ইঙ্গিতবহ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে কেন্দ্র করে কেবল সামরিক সরঞ্জামের আধুনিকায়ন নয়, বরং বৃহত্তর ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো দেশই এককভাবে কোনো শক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে টিকে থাকতে পারে না; বরং বহুমুখী সম্পর্ক ও কৌশলগত স্বনির্ভরতাই একটি জাতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্মানজনক স্থান করে দেয়।বাংলাদেশের বিমানবাহিনী ও প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়ন সময়ের দাবি। আধুনিক যুদ্ধবিমানের মতো স্পর্শকাতর প্রতিরক্ষা সামগ্রী সংগ্রহের ক্ষেত্রে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি ও সক্ষমতা যাচাই করা একান্ত জরুরি। চীন সফরকালে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বা জে-১০ সিই-এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের আলোচনা যদি চূড়ান্ত হয়, তবে তা বাংলাদেশের আকাশ সীমার সুরক্ষায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে গণ্য হবে। তবে প্রতিরক্ষা কেনাকাটার ক্ষেত্রে আমাদের কেবল সাময়িক সামরিক শক্তির দিকে তাকালে চলবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ এবং নিজস্ব জনশক্তির সক্ষমতা তৈরির দিকেও মনোনিবেশ করতে হবে। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে প্রতিটি দেশের নিজস্ব কৌশলী অবস্থান থাকে এবং বাংলাদেশ সেই বাজারে নিজের জায়গা তৈরি করার সময় নিজেদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই দর কষাকষি করবে—এমনটাই প্রত্যাশা।তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বড় ধরনের অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ভারত ও চীন—উভয় দেশের সাথেই বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্কগুলো হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তিতে। কোনো রাষ্ট্রের প্রতি দাসত্ব বা অন্ধ আনুগত্য যেমন কাঙ্ক্ষিত নয়, তেমনি কোনো রাষ্ট্রের সাথে শত্রুতা তৈরি করাও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। বাংলাদেশ যদি তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে চায়, তবে তা হওয়া উচিত নিজের সুরক্ষার জন্য, অন্য কাউকে উত্তেজিত করার জন্য নয়। কূটনৈতিক পরিপক্বতা সেখানেই, যেখানে রাষ্ট্র তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বজায় রেখে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা যেকোনো সফল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পূর্বশর্ত। যখন একটি রাষ্ট্র বড় কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির পথে এগোয়, তখন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উস্কানিমূলক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়া বা জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা হওয়াটা রাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক সময়ে মন্দিরের সুরক্ষা বা ধর্মীয় সংবেদনশীলতা নিয়ে যেসব উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে, তা দেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষার এই ক্রান্তিলগ্নে সব রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ মানুষের উচিত রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে রাখা। ষড়যন্ত্র বা উস্কানির কাছে মাথানত না করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর যদি সত্যিই বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় কোনো মাইলফলক হয়ে ওঠে, তবে তা হবে দেশের জন্য ইতিবাচক। তবে এই সফলতা কেবল চুক্তিতে সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না, এর মাধ্যমে অর্জিত প্রযুক্তি ও কৌশল দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কতটা শক্তিশালী করল, তা-ই হবে আসল মাপকাঠি। ভারতের সাথে সম্পর্কের সমীকরণেও বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্বের জায়গাটি অটুট রাখবে—এটাই জনগণের আকাঙ্ক্ষা। ভারত, চীন বা অন্য যেকোনো বিশ্বশক্তির সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করে নিজস্ব উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়াই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত ও বাস্তবসম্মত পথ। জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির স্বার্থে এখন আমাদের কূটনৈতিক বিচক্ষণতা ও ধৈর্যের পরিচয় দেওয়ার সময়।

রংপুরের ‘স্ট্র্যাটেজিক’ মন্দিরের আড়ালে নতুন কোনো ষড়যন্ত্র?

রংপুরের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে এখন গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে। বিশেষ করে ভারতীয় হাইকমিশনারের ওই অঞ্চলে সফর এবং কৌশলগত স্থানে নতুন মন্দির নির্মাণকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে দানা বাঁধছে নানা প্রশ্ন। এই পরিস্থিতির মাঝেই নতুন করে সামনে আসছে কিছু বিতর্কিত মুখ, যারা ধর্মীয় ইস্যুকে পুঁজি করে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায় কি না—তা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা।চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ঘটনাপ্রবাহের রেশ না কাটতেই এবার পূজা উদযাপন পরিষদের ব্যানারে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন সন্তোষ শর্মা। এর আগে চৈতালী চক্রবর্তীর ‘সনাতনী’ পরিচয়ে রাজনীতির মাঠে আবির্ভূত হওয়া এবং তার ভূমিকা নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, সন্তোষ শর্মার ক্ষেত্রেও তা যেন একই বৃত্তের পুনরাবৃত্তি। পূজা উদযাপন পরিষদের দাবি অনুযায়ী, সারা দেশে মন্দির ভাঙার হুমকির প্রতিবাদে তারা রাজপথে নেমেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন হলো—এই হুমকির প্রকৃত উৎস কোথায়? কোথায় বা কবে এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা ভিত্তি সাধারণের জানা নেই। বরং রংপুরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় ভারতীয় অর্থায়নে মন্দির নির্মাণের বিষয়টিই এখন মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।রাজনৈতিক সমীকরণটিও এখন বেশ জটিল হয়ে উঠছে। সন্তোষ শর্মা যে সংবাদপত্রের সম্পাদক, সেই পত্রিকার প্রকাশক বিএনপির হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন অপু। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এই অপতৎপরতার সঙ্গে দলের সম্পর্ক কী? এছাড়া সরকার দলীয় হুইপ এবং পত্রিকার প্রকাশক হিসেবেই বা তিনি তার সম্পাদকের বিতর্কিত ভূমিকার কী ব্যাখ্যা দেবেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপিকে এখনই জনসমক্ষে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। নাম ও প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যদি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করে, তবে দল হিসেবে তাদের দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলোতে একটি নির্দিষ্ট ‘প্যাটার্ন’ বা ছক স্পষ্ট। একদিকে ধর্মীয় অধিকার আদায়ের মোড়কে রাজপথে শক্তি প্রদর্শন, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সম্প্রীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। সচেতন মহল মনে করছেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য যদি কেবল সাধারণের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করা হতো, তবে তা প্রশংসিত হতো। কিন্তু যদি এর পেছনে কোনো বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়ন কিংবা অস্থিতিশীলতা তৈরির দূরভিসন্ধি থাকে, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সাধারণ মানুষ এখন সতর্ক; তারা চায় না ধর্মের নামে দেশের মাটি কোনো ষড়যন্ত্রের খেলার মাঠ হয়ে উঠুক।

সম্প্রীতির বাংলাদেশে উস্কানির রাজনীতি: সুযোগ-সুবিধার পরও কেন এই অস্থিরতা?

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাংলাদেশের মাটির প্রতিটি ধূলিকণায় ধর্মীয় সম্প্রীতির সুর মিশে আছে। রাজধানী ঢাকার গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগের ৭৯ নম্বর ঠিকানায় শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির বা ইসকন মন্দিরের ঠিক বিপরীতেই দাঁড়িয়ে আছে ৩৫০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক স্বামীবাগ জামে মসজিদ। এটি কেবল দুটি ধর্মীয় উপাসনালয়ের সান্নিধ্য নয়, বরং বহু শতাব্দীর সামাজিক মেলবন্ধনের এক জীবন্ত দলিল। শুধু ঢাকা নয়, লালমনিরহাটের কালিবাড়ির পুরান বাজার জামে মসজিদ ও মন্দির, মৌলভীবাজারের জুড়ির ভূয়াই বাজার, টাঙ্গাইলের নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি কিংবা নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয়ের ইউসুফগঞ্জ—এমন বহু দৃষ্টান্ত ছড়িয়ে আছে সারা দেশে। কোথাও একই আঙিনায়, কোথাও বা একই ফটক দিয়ে ভিন্ন ধর্মের মানুষ নিজ নিজ উপাসনালয়ে প্রবেশ করছেন। শত বছর ধরে এভাবেই এক ছায়াতলে চলছে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, যা বাংলাদেশের চিরায়ত সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।তবে ধর্মীয় সম্প্রীতির এই দীর্ঘ ইতিহাসের বিপরীতে বর্তমানে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি দৃশ্যমান। একটি বিশেষ গোষ্ঠী বা মহলকে প্রায়ই বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজপথে দেখা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র থেকে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু গোষ্ঠী কি বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় পিছিয়ে? পরিসংখ্যান বলছে উল্টো কথা।বর্তমানে দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য রাষ্ট্র যে পরিমাণ পৃষ্ঠপোষকতা করছে, তা নজিরবিহীন। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে ৩২ হাজার মন্দিরে ৫ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বছরে ১৪০ কোটি টাকার বেশি অর্থায়ন, আর ইমাম-মুয়াজ্জিনের পাশাপাশি পুরোহিত, ভিক্ষু, পাদ্রীদের মাসিক ভাতার ব্যবস্থা—এর সবই রাষ্ট্রীয় অসাম্প্রদায়িক কাঠামোর প্রমাণ। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বড়দিন, বুদ্ধ পূর্ণিমা, জন্মাষ্টমীর মতো বড় উৎসবে ছুটি এবং নিজ ধর্মের জন্য ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার সুযোগ কেবল বাংলাদেশেই সম্ভব। এমনকি উৎসব বোনাসের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্র আজ সকল ধর্মের নাগরিককে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।এমন উদার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশে দাঁড়িয়েও যখন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী 'অধিকারের' নামে রাজপথে নামে, তখন তাদের দাবি নিয়ে জনমনে সন্দেহের উদ্রেক হওয়া স্বাভাবিক। বিশ্লেষকদের মতে, এদের এই আন্দোলন ধর্মীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার চেয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ বেশি। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং উগ্রবাদকে পুঁজি করে বিদেশি শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই যেন তাদের মূল লক্ষ্য।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এরা শান্তিপ্রিয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চায়। ধর্মীয় অধিকারের কথা বলে আসলে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং জাতীয় স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জ করতে তৎপর। নাগরিক অধিকার নিশ্চিত থাকলেও, যারা রাষ্ট্রের এই উদারতাকে অস্বীকার করে বিদেশনির্ভর রাজনীতিতে লিপ্ত, তারা প্রকারান্তরে দেশের সকল ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকেই হুমকির মুখে ফেলছে। দেশের শান্তিপ্রিয় নাগরিকরা মনে করেন, সম্প্রীতির এই চিরচেনা বাংলাদেশে উস্কানিমূলক রাজনীতির কোনো স্থান নেই। যেসব উগ্রবাদী ব্যক্তি বা সংগঠন ধর্মীয় সম্প্রীতির বিরুদ্ধে কথা বলার বা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। তারা কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত কি না তা আইনিপদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। রাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে অঙ্কুরেই দমনের অভিমত সচেতন মহলের।  

 ইরান যুদ্ধ

লাইভ / নেতানিয়াহু কি তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চুক্তি ভেস্তে দিচ্ছেন?

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় নতুন করে আলোচনার টেবিলে উঠে এসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অন্তর্বর্তী সমঝোতা চুক্তি। কিন্তু এই কূটনৈতিক সাফল্য এখন চরম হুমকির মুখে, যার নেপথ্যে রয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু এমন এক নেতা যার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, অথচ তার হাতে রয়েছে এক শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। এই সমীকরণই তাকে বর্তমান ভূ-রাজনীতির অন্যতম ‘স্পয়লার’ বা চুক্তি বিনষ্টকারী হিসেবে গড়ে তুলেছে।চুক্তির অনিশ্চয়তা ও নেতানিয়াহুর একগুঁয়েমিওয়াশিংটন ও তেহরান চুক্তিতে সই করলেও ইসরায়েল এই চুক্তির অংশ নয়। নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই শর্ত মানতে বাধ্য নন। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘোষণা করেছেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় আইডিএফ কোনো সময়সীমা ছাড়াই অবস্থান করবে। এই অবস্থানের ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও এখন বড় পরীক্ষার মুখে।রাজনৈতিক অস্তিত্বের লড়াই ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণনেতানিয়াহুর এই কঠোর অবস্থানের পেছনে রয়েছে নিজস্ব রাজনৈতিক দুর্বলতা। ইরান যুদ্ধে প্রত্যাশিত সাফল্য না মেলায় এবং দুর্নীতির মামলার চাপে থাকা নেতানিয়াহু এখন চরমপন্থীদের সমর্থনের ওপর টিকে আছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্ত মেনে নেওয়া তার জন্য ‘রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী’ হতে পারে, কারণ এতে ইসরায়েলি নিরাপত্তার জন্য দৃশ্যমান কোনো সাফল্য মিলছে না।ওয়াশিংটন-তেল আবিব সম্পর্কের বৈপরীত্যযুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে অঢেল অস্ত্র ও কূটনৈতিক সুরক্ষা দিলেও, তেল আবিবকে শর্ত মানাতে ওয়াশিংটন হিমশিম খাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কাঠামো—বিশেষ করে প্রভাবশালী দাতা গোষ্ঠী ও লবিস্টদের কারণে নেতানিয়াহু এমন এক স্বাধীনতা ভোগ করছেন যা অন্য কোনো মিত্র রাষ্ট্রের জন্য প্রায় অসম্ভব।নেতানিয়াহুর কৌশল: ‘নিঃশব্দে’ চুক্তি নস্যাৎনেতানিয়াহুর একটি সুনিপুণ কৌশল রয়েছে। তিনি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান না করেও লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে ইরানকে যুদ্ধের দিকে টেনে নিচ্ছেন। তেহরানের আলোচকরা স্পষ্ট করেছেন, লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার এই চুক্তির মূল চেতনার অংশ। এখন ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর ক্ষয়ক্ষতি বাড়লে এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে থামাতে ব্যর্থ হয়, তবে ইরান এই ভঙ্গুর চুক্তি থেকে সরে আসবে। অর্থাৎ, কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা ছাড়াই কেবল সামরিক অভিযান চালিয়ে নেতানিয়াহু পুরো শান্তিচক্রটি ভেঙে দেওয়ার পথে হাঁটছেন।মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির সারমর্ম হলো, যে পক্ষ চুক্তিতে সই করেনি, তাদের নীরবতা বা অসহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কোনো শান্তিচুক্তিই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। ট্রাম্প প্রশাসন যেখানে অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে দ্রুত সংঘাত থামাতে চাইছে, সেখানে নেতানিয়াহু মনে করছেন সামরিক লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ থামানো ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। এই দুই ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গির দ্বন্দ্বে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি এখন এক চরম অনিশ্চিত ও ভঙ্গুর অবস্থায় উপনীত হয়েছে।এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শান্তি প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কূটনৈতিক কৌশল কী হবে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

লাইভ / হরমুজ প্রণালিতে ফের নৌযান চলাচল বন্ধের ঘোষণা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ তুলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির সামরিক কমান্ডের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর ‘কাতাম আল-আনবিয়া’ আজ শনিবার এই সিদ্ধান্ত জানায়। তেহরানের পক্ষ থেকে একে ‘প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে, আগ্রাসন বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিশ্বের জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধানতম এই জলপথটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসন শুরুর পর প্রথমবার বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। পরবর্তীতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হলে তা খুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তি এখনো অধরা। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে তা চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।এদিকে, মাঠের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আজ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ১৪ দফা চুক্তির ভিত্তিতে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তা টিকিয়ে রাখা সম্ভব। এমনকি হরমুজ প্রণালি বন্ধের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাননি বলেও দাবি করেছেন তিনি।একই সুর পাওয়া গেছে ইরানের পক্ষ থেকেও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা যাচাই করতে এবং নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে একটি প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, যদি ওয়াশিংটন তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তবে তেহরান জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। এখন বিশ্ববাসীর নজর সুইজারল্যান্ডের দিকে—সেখানে আলোচনার টেবিলে উত্তেজনার প্রশমন ঘটে, নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল মোড় নেয়।

লাইভ / ইরানের সঙ্গে বরফ গলছে যুক্তরাষ্ট্রের, সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনার টেবিলে ট্রাম্পের দূত

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় যখন বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কালো মেঘ জমেছিল, ঠিক তখনই কিছুটা স্বস্তির খবর নিয়ে এলো সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক। ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, শান্তি আলোচনার প্রথম পর্বে অংশ নিতে দেশটিতে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। দীর্ঘ উত্তেজনার পর দুই দেশের প্রতিনিধিদের এই মুখোমুখি বসার ঘটনাকে কূটনৈতিক মহলে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।এর আগে আলোচনার টেবিলে বসার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে হুট করেই তার সফর স্থগিত করা হয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান এবং নৃশংসতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ায় ভ্যান্স এই আলোচনা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। গত কয়েকদিন ধরে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যুসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও ইসরায়েলি বাহিনীর তৎপরতা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, যা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভঙ্গুর সমঝোতা চুক্তিকে ভেস্তে দেওয়ার উপক্রম করেছিল।তবে পরিস্থিতির মোড় ঘোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপে। এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি ইসরায়েলকে স্পষ্টভাবে বার্তা দিয়েছেন—মাঝেমধ্যে মাথা ঠান্ডা রেখে শান্ত হওয়া জরুরি। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির পথ প্রশস্ত হয়। লেবাননের স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল চারটা থেকে কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রাথমিক বাধা দূর হওয়ার বড় সূচক হিসেবে ধরা হচ্ছে।উল্লেখ্য, বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। সেই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে সামরিক সংঘাত বন্ধ করা। লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বেপরোয়া আচরণ সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় শান্তি আলোচনার পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডে স্টিভ উইটকফ মূলত ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে চূড়ান্ত সমঝোতার ভিত্তি স্থাপনে কাজ শুরু করেছেন। যদিও ইসরায়েলের কট্টরপন্থি অংশটি এই শান্তি প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে তৎপর ছিল, তবুও বর্তমান যুদ্ধবিরতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের এই বৈরিতা কাটিয়ে দুই পক্ষ টেকসই কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে কি না।

লাইভ / ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সম্পর্কে টানাপোড়েন: শান্তিচুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক দুঃস্বপ্ন

ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ যুদ্ধে জয়ী হয়ে দেশের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করার যে স্বপ্ন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেখেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তিচুক্তি সেই পরিকল্পনাকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের এই সমঝোতাকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ‘ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। এর ফলে দীর্ঘদিনের মিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথেও নেতানিয়াহুর সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরার ইঙ্গিত মিলছে।শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া এই চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কথা রয়েছে। যদিও নেতানিয়াহু বারবার দাবি করছেন, ইসরায়েল এই শর্ত মানতে বাধ্য নয় এবং লেবাননে তাদের সামরিক অবস্থান ও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার স্বাধীনতা বজায় থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে ইরান ও তার সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা কমানোর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, এই চুক্তিতে তার প্রতিফলন নেই বললেই চলে।ট্রাম্পের সাথে নেতানিয়াহুর সম্পর্কের এই অবনতি এখন আর পর্দার আড়ালে নেই। ট্রাম্পের ইরান-ঘেঁষা নীতিতে ইসরায়েলি নেতারা বিস্মিত ও হতাশ। এর আগে লেবাননে হামলার জেরে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘পুরোপুরি পাগল’ বলেছিলেন, যা দুই নেতার ক্রমবর্ধমান দূরত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে তার পরাজয়ের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, বিশেষ করে ট্রাম্পের ওপর ইসরায়েলিদের আস্থাহীনতা তার জনপ্রিয়তা কমিয়ে দিয়েছে।ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক জনমত জরিপ বলছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়ে ট্রাম্পের অঙ্গীকারের ওপর মাত্র ৪১ শতাংশ ইহুদি নাগরিক আস্থা রাখেন, যা কয়েক মাস আগেও ছিল ৬৪ শতাংশ। এই অবস্থায় নেতানিয়াহু এখন বাজি ধরছেন ৬০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন আলোচনার ওপর। তার রাজনৈতিক কৌশলের মূল ভরসা হলো, এই সময়ের মধ্যে যেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত কোনো চুক্তি না হয় এবং পুনরায় সংঘাত শুরুর পথ প্রশস্ত হয়।দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ট্রাম্পের সাথে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখা নেতা হিসেবে উপস্থাপন করে আসা নেতানিয়াহুর জন্য এই চুক্তিটি কার্যত একটি ‘রাজনৈতিক দুঃস্বপ্ন’ হয়ে দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটনের সাথে এই টানাপোড়েনের মাঝেই তিনি ইসরায়েলের নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষার দাবিটুকু কতটুকু ধরে রাখতে পারেন।

রাজনীতি

খুনের রাজনীতি ছাড়ুন, নয়তো আওয়ামী লীগের পরিণতি হবে: শিবির সভাপতি

খুনের রাজনীতি পরিহার না করলে আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিকেও দেশের মানুষ তাড়িয়ে ছাড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। গাইবান্ধায় শিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তিনি এই মন্তব্য করেন।রবিবার রাতে রাজধানীর শাহবাগে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শিবিরের ঢাকা মহানগরী শাখার উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিবির সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি বিএনপি ও যুবদলকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহর ওপর যেভাবে কাপুরুষোচিত ও বর্বর কায়দায় হামলা চালিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ ধারার রাজনীতি হতে পারে না। শিবির এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। তিনি অনতিবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান বিএনপি ও প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির বর্তমান কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে যেন দেশের মানুষ পুরো বাংলাদেশ তাদের কাছে ইজারা দিয়েছে। দেশের এমন কোনো কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাঠঘাট বা ব্যাংক-বিমা বাকি নেই, যেখানে তারা জবরদখল ও লুটপাট চালায়নি। তাদের এই জুলুম-অত্যাচারে দেশের সাধারণ মানুষ আজ মারাত্মকভাবে অতিষ্ঠ।বিক্ষোভ মিছিলে অন্যান্যের মধ্যে শিবিরের কেন্দ্রীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক আবু মুসা, বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমান, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল ও বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমানসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, রবিবার বিকেলে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী। পরে তিনি মারা যান। নিহত সাইফুল্লাহ সাঘাটার শিমুল তাইড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন গুঞ্জন: বাস্তবতা ও রাজনৈতিক প্রচারণার গোলকধাঁধা

গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর চার মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির মূলধারায় ফিরে আসার বিষয়টি এখন আলোচনার টেবিলে উঠে এসেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং রাজনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ বলছে, এসব আলোচনার বড় অংশই নিছক গুঞ্জন বা এক ধরনের রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের প্রতিফলন। বর্তমান বাংলাদেশে যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তাতে শেখ হাসিনার ফিরে আসার সম্ভাবনা তাত্ত্বিকভাবে যতটা আলোচিত, প্রায়োগিকভাবে তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও অনিশ্চিত।ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ক্ষমতার দম্ভে থাকা স্বৈরশাসক বা দীর্ঘমেয়াদী শাসকরা যখন ক্ষমতাচ্যুত হন, তখন তাদের প্রত্যাবর্তনের পথ সাধারণত কণ্টকাকীর্ণ থাকে। ফিলিপাইনের ফার্দিনান্দ মার্কোস বা থাইল্যান্ডের থাকসিন সিনাওয়াত্রার দিকে তাকালে আমরা একধরনের তুলনামূলক চিত্র পাই। থাকসিন সিনাওয়াত্রা দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছিলেন, কিন্তু তার জন্য দীর্ঘ আইনি লড়াই ও সমঝোতার এক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল। অন্যদিকে, গণ-অভ্যুত্থানে চূর্ণ হওয়া শাসনের পর শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেনি, বরং গত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ভেতরে এক গভীর ক্ষোভ ও বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। ফলে এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক রদবদল নয়, বরং একটি নতুন রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা।আমাদের দেশের আজকের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে শেখ হাসিনার ফিরে আসার গুঞ্জনটি মূলত প্রচারণার অংশ বলে মনে করছেন অধিকাংশ বিশ্লেষক। সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের মতে, অপরাধ ও দুর্নীতির দায়মুক্তির কোনো সুযোগ এখানে নেই। তার ভাষ্যমতে, গণতন্ত্রের নামে কোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি এদেশের মানুষ আর চায় না। ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতে চলে, আর বর্তমান সময়ে সেই ইতিহাস জনমতের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভেতরে যে আত্মসমালোচনার অভাব, তা তাদের জনগণের থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। দলটি যদি তাদের অতীতের ভুলগুলো স্বীকার করে নতুনভাবে সামনে আসতে পারত, তবে হয়তো ভিন্ন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হতো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জনগণ সেই পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখছে না।বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র চার মাস। এই সময়ের মধ্যে সরকার সব আশা পূরণ করতে না পারলেও, হাসিনাবিরোধী জনমত ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলো এখনো অটুট আছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার ফেরা মানেই হলো দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া। তিনি ফিরলে তাকে আইনি কাঠামোর ভেতর দিয়ে যেতেই হবে। এখানে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে জবাবদিহিতার বিষয়টিই মুখ্য। সুতরাং, যারা ভাবছেন যে রাজনীতির স্বাভাবিক ধারায় তিনি বা তার দল খুব সহজেই ফিরে আসবে, তারা হয়তো দেশের বর্তমান গভীর রাজনৈতিক পরিবর্তনকে পুরোপুরি অনুধাবন করছেন না।তবে এর অর্থ এই নয় যে, আওয়ামী লীগ চিরতরে রাজনীতির মাঠ থেকে মুছে যাবে। একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও তৃণমূলের অস্তিত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ যেমনটি মনে করেন, কোনো দল নিষিদ্ধ বা কোণঠাসা থাকলেই রাজনীতি থেকে হারিয়ে যায় না, তবে তাদের ফেরার পথটি কঠিন হতে হবে তাদের নিজের অতীতের কাজের বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে। জনগণ কোনো রাজনৈতিক শূন্যতা এখন আর দেখছে না, বরং তারা দেখছে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার এক কঠিন লড়াই।আমরা যদি এই পরিস্থিতির একটি টেকসই সমাধান খুঁজতে চাই, তবে প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে আইনের শাসন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনের ঊর্ধ্বে নয়—এই সত্যটি প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভিত্তি মজবুত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার প্রয়োজন। আওয়ামী লীগসহ যেকোনো বড় দলকে ফিরতে হলে অবশ্যই নতুন ও স্বচ্ছ নেতৃত্বের উত্থান ঘটাতে হবে, যারা অতীতের ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিশীলিত রাজনীতি চর্চা করবে। তৃতীয়ত, বর্তমান সরকারকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা রোধে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই সন্ধিক্ষণে অস্থিরতা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় কূটনৈতিক ও আইনি সক্ষমতা বাড়াতে হবে।পরিশেষে একটি কথাই বলা প্রয়োজন, রাজনীতির মাঠ কখনো খালি থাকে না। কিন্তু সেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে হয়। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা যদি কেবল প্রোপাগান্ডা বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কৌশল হয়, তবে তা ব্যর্থ হতে বাধ্য। দেশের মানুষ এখন জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে এই স্বপ্ন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য জনগণের অবিচল সংকল্প। ইতিহাসের এই বাঁকবদলে ব্যক্তি বা দলের চেয়ে রাষ্ট্রের সুরক্ষা এবং জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই হবে আগামীর মূল চালিকাশক্তি।

‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, মাফিয়া পার্টি’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে ‘মাফিয়া পার্টি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দলটি আর কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য নয়। আগামী ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশে পরিকল্পিত নাশকতা ও অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে, যার প্রেক্ষিতে সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।২৩ জুনকে ঘিরে কোনো নির্দিষ্ট হুমকি আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সব সময় পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী সতর্কতা জারি করা হয় না। তবে এবার সুনির্দিষ্ট সন্দেহের ভিত্তিতে সারা দেশে অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, যদি কোনো গোষ্ঠী বা দল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়, তবে পুলিশ বাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব কঠোরভাবে পালন করবে।সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সদর দপ্তর দেশের সব মেট্রোপলিটন কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজিদের কাছে একটি জরুরি বার্তা পাঠিয়েছে। ১৮ জুন পাঠানো ওই বার্তায় দলটির সম্ভাব্য কর্মকাণ্ডের একটি আগাম মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২৩ জুন জেলাগুলোতে দলটির নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, মিছিল কিংবা সমাবেশের নামে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এমন পরিস্থিতি ঘটলে অন্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির কর্মী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি রয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব কর্মসূচিতে বাধা দিলে দলটির নেতা-কর্মীরা আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মাঠপর্যায়ের প্রতিটি ইউনিটকে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা রোধে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক

ভাঙছে ইতিহাসের রেকর্ড: চরম তাপদাহে পুড়ছে ইউরোপ, জারি জরুরি নিষেধাজ্ঞা

মে মাসের রেকর্ডভাঙা গরমের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও এক চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছে পুরো ইউরোপ। মহাদেশজুড়ে ধেয়ে আসা তীব্র তাপদাহ এবার জুন মাসের এযাবৎকালের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদেরা। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ফ্রান্সে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা এলাকায় মদ্যপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে স্পেন ও জার্মানিতে বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে বড় বড় ক্রীড়া আসর।জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মতে, ইউরোপে এভাবে ঘন ঘন তাপদাহ ফিরে আসাটা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির এক স্পষ্ট চড়। কয়লা, তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির অবাধ ব্যবহারই এই নরকগুলজার পরিস্থিতির প্রধান কারণ। বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী দিনে এই ধরনের তাপদাহ আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী এবং আরও বেশি তীব্র হয়ে উঠবে।ফ্রান্স: উৎসবের আমেজে গরমের থাবাতীব্র গরমকে উপেক্ষা করেই ফ্রান্সে প্রতিবছরের ঐতিহ্যবাহী পথসংগীত উৎসব ‘ফেত দে লা মিউজিক’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে প্যারিসের বিখ্যাত ল্যুভর পিরামিডের নিচে পূর্বনির্ধারিত একটি উন্মুক্ত কনসার্ট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। জনস্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার ঘোষণা করেছে, যেসব অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি রয়েছে, সেখানে উৎসব চলাকালীন উন্মুক্ত স্থানে মদ্যপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।ইতিমধ্যেই দেশের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে; দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পিসোস শহরে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলকে রেড অ্যালার্টের আওতায় আনা হয়েছে, যা সোমবার নাগাদ দেশের মূল ভূখণ্ডের প্রায় অর্ধেক অংশে (৯৬টি বিভাগের মধ্যে ৪৯টিতে) গিয়ে ঠেকবে। এদিকে নগরবাসীকে কিছুটা স্বস্তি দিতে প্যারিস কর্তৃপক্ষ স্থানীয় ক্যানেল সেন্ট মার্টিন খালে সাঁতার কাটার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে।জার্মানি ও বেলজিয়াম: বজ্রঝড় ও রেললাইনে ত্রুটির শঙ্কাতীব্র গরমের সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রচণ্ড বজ্রঝড়ের কারণে বার্লিন ওপেন টেনিস টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে খেলোয়াড় ও দর্শকদের দ্রুত ভেন্যু থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা পর খেলা পুনরায় শুরু হয়। সপ্তাহের শেষে বার্লিনের তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রির ওপরে।প্রতিবেশী বেলজিয়ামেও তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হতে পারে। এদিকে প্রচণ্ড গরমে রেললাইনের ইস্পাত গলে বা বেঁকে গিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির ঝুঁকি এড়াতে বেলজিয়ামের জাতীয় রেল কোম্পানি ব্যস্ত সময়ের কিছু ট্রেন চলাচল অগ্রিম বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।স্পেন ও সুইজারল্যান্ড: বিশ্বকাপ উন্মাদনায় সৈকতে ভিড়স্পেনে বছরের প্রথম আনুষ্ঠানিক তাপদাহ শুরু হয়েছে, যা আগামী বুধবার পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। দেশের কিছু অংশে পারদ ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এই চরম গরমে রাজধানী মাদ্রিদে ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্পেন ও সৌদি আরবের ম্যাচের যে সরাসরি বড় পর্দায় প্রদর্শনী (ফ্যান জোন) হওয়ার কথা ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে পুরো আইবেরীয় উপদ্বীপজুড়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্পেন ও পর্তুগালের মানুষ দলে দলে সমুদ্রসৈকতে ভিড় করছেন।এদিকে সুইজারল্যান্ডের আবহাওয়া বিভাগও ‘তীব্র তাপদাহের’ সতর্কতা জারি করেছে। দেশের নিম্নাঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠার আশঙ্কা রয়েছে এবং এই পরিস্থিতি কতদিন চলবে তা নিশ্চিত না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।বলকান অঞ্চল: আসছে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’গরমের তীব্রতা ছড়িয়ে পড়ছে বলকান অঞ্চলের দেশগুলোতেও। ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ার কিছু অংশে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ানোর আশঙ্কায় ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারির প্রস্তুতি চলছে। ক্রোয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য নির্দেশিকা জারি করেছে। পাশাপাশি নর্থ মেসিডোনিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা এবং মন্টেনেগ্রোও এই চরম পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। চিকিৎসকেরা সাধারণ মানুষকে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং বয়স্ক ও অসুস্থদের প্রতি বিশেষ নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।যুক্তরাজ্য: ধেয়ে আসছে ‘ট্রপিক্যাল নাইটস’যুক্তরাজ্যের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিস্তীর্ণ অংশে চরম গরমের পূর্বাভাস দিয়ে ‘অ্যাম্বার ওয়ার্নিং’ জারি করেছে। চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা জুন মাসের আগের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে। রয়্যাল মেটিওরোলজিক্যাল সোসাইটির প্রধান নির্বাহী লিজ বেন্টলি জানান, এর ফলে টানা দুই মাস—মে এবং জুনে—দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ব্যবধানে ভেঙে যাওয়ার এক অভূতপূর্ব নজির তৈরি হবে।সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, দক্ষিণ ইংল্যান্ডে রাতের তাপমাত্রাও ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামবে না, যাকে আবহাওয়াবিদেরা ‘ট্রপিক্যাল নাইটস’ বা ক্রান্তীয় রাত বলে অভিহিত করছেন। ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের গবেষক অক্ষয় দেওরাস সতর্ক করে বলেছেন, এই তীব্র তাপদাহের সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়বে জনস্বাস্থ্য, গণ-অবকাঠামো এবং জরুরি সেবা খাতের ওপর।

 মহাকালের আয়না

রাজনৈতিক আলো আঁধারির মিশেলে লেখা এক জীবন

 আব্দুল মালেক: একটি অমীমাংসিত অধ্যায়হকিস্টিক হাতে আব্দুল মালেকের লাশের পাশে তৎকালীন ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদ১৯৬৯ সালের অগাস্ট মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্মৃতিচারণ ও দলীয় বর্ণনায় উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে আব্দুল মালেক ইসলামী মূল্যবোধ ও আধুনিক জ্ঞানচর্চার সমন্বয়ে একটি একীভূত শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে বক্তব্য রাখেন বলে তাঁর অনুসারীরা দাবি করেন।সেই সময়ের কিছু বর্ণনায় বলা হয়, তাঁর বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিল। সমর্থকদের মতে, তিনি প্রচলিত শিক্ষা কাঠামোর সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে এমন একটি শিক্ষানীতির প্রস্তাব করেছিলেন, যেখানে ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।তবে পরবর্তীকালে ঘটে যাওয়া এক সহিংস ঘটনার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে যায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্র ও স্মৃতিকথায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, সেমিনার-পরবর্তী সময়ে তাঁকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়। এসব বর্ণনায় তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতাদের নামও উঠে আসে। যদিও এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও সর্বজনস্বীকৃত ঐতিহাসিক বিবরণ আজও বিতর্কমুক্ত নয়।যা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, আব্দুল মালেক পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং একই বছরের আগস্ট মাসে তাঁর মৃত্যু ঘটে। তাঁর অনুসারীরা এই ঘটনাকে রাজনৈতিক সহিংসতার ফল বলে মনে করেন, অন্যদিকে ইতিহাসবিদদের একটি অংশ মনে করেন ঘটনাটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। আজও আব্দুল মালেকের মৃত্যু বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে একটি আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় হয়ে রয়েছে।ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ: নির্বাচন, জনপ্রিয়তা ও অন্তর্ধানের বিতর্কডা. আজহার উদ্দিন আহমেদ (বামে)স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রথম দিককার রাজনৈতিক ইতিহাসে ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ একটি উল্লেখযোগ্য নাম। ভোলা অঞ্চলে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল ব্যাপক এবং তিনি পাকিস্তান আমল থেকেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তাঁর নাম নতুন করে আলোচনায় আসে। বিভিন্ন রাজনৈতিক বর্ণনায় দাবি করা হয়, তিনি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির একজন সম্ভাবনাময় প্রার্থী ছিলেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর জনপ্রিয়তা ক্ষমতাসীনদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারত।সমালোচকদের একটি অংশের অভিযোগ, নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁর রহস্যজনক অন্তর্ধান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম অমীমাংসিত ঘটনা। তাঁদের মতে, এটি কেবল একজন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ছিল না; বরং নবজাত রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক চর্চার সীমাবদ্ধতার একটি প্রতীকী উদাহরণ।তবে এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত ছিলেন বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি সরাসরি দায়ী ছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো ঐতিহাসিক ও আইনগতভাবে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে বিষয়টি আজও গবেষণা ও রাজনৈতিক বিতর্কের পরিসরে অবস্থান করছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ব্যালটের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা। কিন্তু ইতিহাসের বহু অধ্যায়ে দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার পরিবর্তে প্রশাসনিক বা শক্তির ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। ডা. আজহার উদ্দিনের ঘটনা সেই বৃহত্তর প্রশ্নকেই সামনে নিয়ে আসে।আমলাতন্ত্রের দলীয়করণ: একটি দীর্ঘমেয়াদি উত্তরাধিকারতোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে সমালোচনামূলক আলোচনায় যে বিষয়টি প্রায়ই উঠে আসে, তা হলো স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রশাসনিক কাঠামোর রাজনৈতিককরণ।রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই বলে আসছেন, একটি রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব নির্ভর করে তার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতার ওপর। বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, পুলিশ কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে শুরু করে, তখন রাষ্ট্রের পেশাদার কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।সমালোচকদের দাবি, স্বাধীনতার পর যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হয়েছিল, সেখানে মেধা ও যোগ্যতার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে প্রশাসনের ভেতরে এমন একটি সংস্কৃতি জন্ম নেয়, যেখানে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের চেয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রতি আনুগত্য অনেক সময় বেশি মূল্য পেতে শুরু করে।অবশ্য এই সমস্যাকে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি বা একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা কঠিন। বাংলাদেশের পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রায় সব বড় দলই কোনো না কোনো মাত্রায় একই প্রবণতার জন্য সমালোচিত হয়েছে।তবু ইতিহাসের বিচারে প্রশ্নটি থেকে যায়: স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রগঠনের সেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যারা নেতৃত্বের আসনে ছিলেন, তারা কি একটি নিরপেক্ষ ও পেশাদার প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পেরেছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক জীবনের আলো ও ছায়া একসঙ্গে সামনে এসে দাঁড়ায়।

বদলে যাচ্ছে বিশ্বব্যবস্থা: আসছে ‘জঙ্গলের আইন’

ইতিহাসের পাতায় প্রতিটি ক্ষমতার উত্থান যেমন ধ্রুব সত্য, তেমনি তার পতনও অনিবার্য। এক সাম্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষের ওপর দাঁড়িয়ে অন্য শক্তির উত্থান—মানব সভ্যতার এই চিরায়ত ধারা বর্তমান সময়ে এসে এক জটিল মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিংয়ের যৌথ ঘোষণা বিশ্বরাজনীতির সেই অস্থিরতা ও উদ্বেগেরই প্রতিচ্ছবি। তারা সতর্কবার্তা দিয়েছেন, বিশ্বব্যবস্থা ক্রমশ ‘জঙ্গলের আইন’ বা আইনহীন অরাজকতার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যেখানে বলপ্রয়োগই হয়ে উঠছে সর্বশেষ মানদণ্ড।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বৈশ্বিক কাঠামো—জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তি—মূলত তৈরি হয়েছিল অরাজকতা প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু গত এক দশকে ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের বহুমুখী সংঘাত, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই এই কাঠামোকে কেবলই দুর্বল করেছে। পুতিন ও শির ভাষায়, ঔপনিবেশিক মানসিকতা নিয়ে কিছু রাষ্ট্রের এককভাবে বিশ্ব পরিচালনার চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে। এই অতিকথনের ভেতরেই লুকিয়ে আছে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার আসল সংকট—একক কেন্দ্রিকতা ভেঙে বহুমুখী (multipolar) শক্তির উত্থান।কি এই ‘জঙ্গলের আইন’? আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘জঙ্গলের আইন’ বলতে এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্রসমূহ তাদের জাতীয় স্বার্থকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির ঊর্ধ্বে রাখে সবসময়। যখন বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজের কার্যকারিতা হারায়, তখনই রাষ্ট্রগুলো জোটবদ্ধ বিভাজনের পথ বেছে নেয়। বর্তমানে বিশ্ব যে সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কি সত্যিই আইনের শাসনের সমাপ্তি ঘটাচ্ছে?বিশ্লেষকদের মতে, পৃথিবী এখন এক ভয়াবহ সন্ধিক্ষণে।বৈশ্বিক ক্ষমতাধরেরা  কেবল সামরিক প্রতিযোগিতার সেই পুরনো ধারায় ফিরে যাচ্ছে। দখল সাম্রাজ্যবাদ আর যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নানা রকম চুক্তি,সমঝোতা, সংঘ, পরিষদ আর জোট হল। এই শতাব্দীতে এসে যেন সবগুলো সভ্য প্রক্রিয়াই তাদের গৌরব হারিয়ে তাচ্ছিলের খোরাক যোগাচ্ছে। ঠিক নতুন কোন শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা তৈরির মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি পুণ:প্রতিষ্ঠিত হবে তা এখন ভাবনার বিষয়।সভ্যতার ভবিষ্যৎ: শক্তি নাকি নীতি?ইতিহাসে দেখা যায় শক্তির দাপট বা অর্থনৈতিক আধিপত্য কোনো সভ্যতার স্থায়িত্বের একমাত্র নিশ্চয়তা দিতে পারে নি। একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই বিশ্বব্যবস্থা গড়ে ওঠে মূলত ন্যায়বিচার, সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে। রাশিয়া–চীনের এই যৌথ হুংকার কিংবা পশ্চিমাদের পাল্টা প্রতিক্রিয়া—উভয়ই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা হবে অত্যন্ত জটিল।পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা কি কেবল শক্তির লড়াইয়ের আখড়া হবে, নাকি মানুষ কোনো বৃহত্তর নৈতিক ও মানবিক নীতিকে কেন্দ্র করে তার ভবিষ্যৎ নতুন করে নির্মাণ করবে? এই উত্তরটিই নির্ধারণ করবে একুশ শতকের পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ। আমরা কি ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি সহযোগিতার নতুন কোনো মেরুকরণ সম্ভব? এই উত্তর খুঁজছে আজকের পুরো পৃথিবী।

ইতিহাসের অজানা গল্প: আসাম কেন বাংলাদেশের হয়নি?

১৯৪৭ সালের দেশভাগ শুধু দুটি রাষ্ট্রের জন্ম দেয়নি, বদলে দিয়েছিল গোটা উপমহাদেশের মানচিত্র। সেই উত্তাল সময়ে এমন অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যেগুলোর প্রভাব আজও টের পাওয়া যায়। কিন্তু ইতিহাসের ভাঁজে চাপা পড়ে থাকা একটি সত্য হলো—এক সময় আসামও পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়ে যেতে পারত। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। আর তার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল একজন মানুষের দৃঢ় অবস্থানের।সেই মানুষটি গোপীনাথ বর্দলৈ।গোপীনাথ বর্দলৈ(ছবি- উইকিপিডিয়া)স্বাধীনতার ঠিক আগে, যখন ভারতজুড়ে বিভাজনের রাজনীতি তুঙ্গে, তখন মুসলিম লিগের পরিকল্পনায় আসাম ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বাধীন মুসলিম লিগ মনে করত, পূর্ব পাকিস্তানকে টেকসই ও কৌশলগতভাবে শক্তিশালী করতে হলে আসামকে সঙ্গে রাখা জরুরি। বিশেষ করে সিলেট ও গোয়ালপাড়ার মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে সামনে এনে তারা পুরো আসামের ওপর দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিল।শুধু ধর্মীয় হিসাব নয়, ভৌগোলিক কারণেও আসাম ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আসাম যুক্ত হলে পূর্ব পাকিস্তানের সীমানা আরও বিস্তৃত হতো এবং তা বার্মা সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যেত। উপরন্তু, বিশ শতকের প্রথম ভাগে পূর্ব বাংলা থেকে বিপুল সংখ্যক মুসলিম কৃষকের আসামে বসতি স্থাপন মুসলিম লিগকে রাজনৈতিকভাবে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। ১৯১১ থেকে ১৯৩১ সালের মধ্যে আসামে মুসলিম জনসংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়াকে তারা তাদের দাবির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছিল।এই প্রেক্ষাপট বুঝতে হলে সিলেটের ইতিহাসও জানা জরুরি।১৮৭৪ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রশাসনিক সুবিধার জন্য সিলেটকে বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে আসামের সঙ্গে যুক্ত করে। অথচ ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিচয়ে সিলেট ছিল সম্পূর্ণ বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই সিলেটের মানুষের মধ্যে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি কাজ করছিল। তারা নিজেদের বাঙালি মনে করলেও প্রশাসনিকভাবে ছিল অসমিয়া-শাসিত প্রদেশের অংশ।দেশভাগের আলোচনা শুরু হলে তাই সিলেট প্রশ্নটি দ্রুতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকারের পাঠানো ক্যাবিনেট মিশন ভারত বিভাজনের একটি প্রস্তাব দেয়। সেই পরিকল্পনায় বাংলা ও আসামকে একসঙ্গে ‘গ্রুপ সি’-তে রাখা হয়। মুসলিম লিগ এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানায়, কারণ এর মাধ্যমে বাংলার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রভাব ব্যবহার করে আসামকেও পাকিস্তানের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছিল।এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় বিপদ ছিল—আসামের নিজস্ব প্রতিনিধিরা সংখ্যায় কম হয়ে পড়তেন। বাংলার বিশাল প্রতিনিধিদলের সামনে আসামের মতামত কার্যত গুরুত্ব হারাত। অনেকেই মনে করছিলেন, এভাবে চলতে থাকলে একসময় পুরো আসামই পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়ে যেতে পারে।ঠিক তখনই দৃঢ় অবস্থান নেন গোপীনাথ বর্দলৈ।তিনি ছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী এবং কংগ্রেসের নেতা। কিন্তু এই প্রশ্নে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গেও আপস করেননি। স্বাধীনতার স্বার্থে কংগ্রেসের কিছু শীর্ষ নেতা যেখানে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতার কথা ভাবছিলেন, সেখানে বর্দলৈ মনে করতেন—আসামকে বাংলার সঙ্গে জোর করে যুক্ত করা মানে প্রদেশটির স্বাতন্ত্র্য ও মানুষের অধিকার বিসর্জন দেওয়া।জওহরলাল নেহরু পর্যন্ত বর্দলৈর অবস্থানে বিরক্ত হয়েছিলেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ আছে। কিন্তু বর্দলৈ পিছু হটেননি। তিনি সরদার বল্লভভাই পটেলের সমর্থন পান এবং আসামজুড়ে গণমত গড়ে তুলতে শুরু করেন। আসাম প্রদেশ কংগ্রেস গ্রুপিং পরিকল্পনার বিরোধিতা করে কঠোর অবস্থান নেয়। বর্দলৈ উপজাতীয় নেতা, অসমিয়া জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী এবং অ-মুসলিম রাজনীতিকদের এক প্ল্যাটফর্মে আনেন।তার লক্ষ্য ছিল একটাই—আসামকে বাংলার নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে রাখা।পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে ১৯৪৭ সালে। ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন নতুন বিভাজন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। সেখানে বলা হয়, সমগ্র আসাম ভারতেই থাকবে; শুধু সিলেট জেলার ভাগ্য নির্ধারণ হবে গণভোটের মাধ্যমে।৬ ও ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত সেই গণভোটে অধিকাংশ ভোটার পূর্ব বাংলার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে মত দেন। ফলাফল হিসেবে সিলেটের বেশিরভাগ অংশ পূর্ব পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত হয়। শুধু করিমগঞ্জ মহকুমা ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যায়।মজার বিষয় হলো, আসামের অনেক কংগ্রেস নেতা সিলেট হারানোকে বড় ক্ষতি হিসেবে দেখেননি। কারণ সিলেট থাকলে আসামে বাংলাভাষীর সংখ্যা আরও বেশি থাকত এবং অসমিয়ারা নিজেদের প্রদেশেই ভাষাগতভাবে সংখ্যালঘু হয়ে পড়তেন। এমনকি তৎকালীন দৈনিক আসাম ট্রিবিউন সিলেটের বিদায়কে এক ধরনের স্বস্তির খবর হিসেবেই প্রকাশ করেছিল।তবে মুসলিম লিগের মূল লক্ষ্য ছিল পুরো আসাম। সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় মূলত দুটি কারণে—ক্যাবিনেট মিশনের গ্রুপিং পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়া এবং গোপীনাথ বর্দলৈর অনমনীয় অবস্থান।এই গল্পে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম সৈয়দ সাদউল্লাহ। তিনি মুসলিম লিগের নেতা এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর আমলে পূর্ব বাংলা থেকে আসা বহু মুসলিম কৃষককে আসামে বসতি স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। সমালোচকদের মতে, এই নীতির পেছনেও ছিল দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক হিসাব—আসামে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়িয়ে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের দাবিকে শক্তিশালী করা।বর্দলৈ ক্ষমতায় এসে সেই নীতিতে পরিবর্তন আনেন। তিনি ভূমি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেন।তবু দেশভাগ আসামের জন্য সহজ ছিল না। সিলেট হারানোর পাশাপাশি আসাম হারায় চট্টগ্রাম বন্দরের সরাসরি যোগাযোগ। ব্রিটিশ আমল থেকে চট্টগ্রামই ছিল আসামের সমুদ্রপথের প্রধান প্রবেশদ্বার। দেশভাগের পর আসাম কার্যত একটি ভূবেষ্টিত অঞ্চলে পরিণত হয়। ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে তার সংযোগ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে মাত্র একটি সরু করিডরে—যেটি পরে ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত হয়।                                                                                                                                                                          অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতি হয় ব্যাপক। চা শিল্প, চুনাপাথর এবং সিমেন্ট ব্যবসার একটি বড় অংশ সিলেটের সঙ্গে হারিয়ে যায়।তারপরও ইতিহাসের বিচারে সবচেয়ে বড় সত্য হলো—আসাম ভারতের অংশ হিসেবেই থেকে যায়। আর সেই সিদ্ধান্তের পেছনে একজন মানুষের রাজনৈতিক সাহস ছিল নির্ণায়ক শক্তি।পরবর্তীকালে সরদার পটেল বলেছিলেন, “গোপীনাথ বর্দলৈ না থাকলে আজ আসাম ভারতের অংশ থাকত না।”১৯৯৯ সালে ভারত সরকার তাঁকে মরণোত্তর ভারতরত্ন প্রদান করে। গুয়াহাটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নামও রাখা হয় তাঁর নামে।ইতিহাসে অনেক বড় পরিবর্তন যুদ্ধ বা চুক্তি দিয়ে আসে। আবার কখনো কখনো একজন মানুষের অটল অবস্থানই মানচিত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয়। গোপীনাথ বর্দলৈর গল্প সেই বিরল ইতিহাসগুলোরই একটি।

সাম্রাজ্য যখন শেষ লড়াইয়ে নামে

দুই হাজার বছর আগের কথা। গ্রিক ইতিহাসবিদ প্লুটার্ক একটি মজার জিনিস খেয়াল করেছিলেন। যে সাম্রাজ্য পড়তে শুরু করে, সে প্রায়ই একটা কাজ করে — হঠাৎ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যেন একটা শেষ চেষ্টা। হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার মরিয়া প্রচেষ্টা। কিন্তু এই যুদ্ধ গৌরব ফেরায় না — বরং পতনকে আরও দ্রুত করে।ইতিহাসবিদরা এর একটা নাম দিয়েছেন — 'মাইক্রো-মিলিটারিজম'। বাংলায় বললে, ক্ষুদ্র সামরিক দুঃসাহস।আজকের প্রশ্ন হলো — ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা কি সেই একই পথে? অ্যাথেন্সের শেষ বাজিখ্রিস্টপূর্ব ৪১৫ সাল। অ্যাথেন্স তখন ক্ষমতার শীর্ষ পেরিয়ে এসেছে। স্পার্টার সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধে ক্লান্ত, প্রভাব কমছে।এই সময় নেতৃত্বে এলেন নিসিয়াস। বংশে বড়, ব্যক্তিত্বে নয়। সিদ্ধান্তহীন এই মানুষটি নগরবাসীকে একটি বড় স্বপ্ন দেখালেন — সিসিলির সিরাকিউসে শত্রুদের আঘাত করো, সব বদলে যাবে।দুইশো জাহাজ, বারো হাজার সৈন্য পাঠানো হলো।ফিরে এলো না।পুরো বহর ধ্বংস হলো। যারা বেঁচে ছিলেন তাদের পাথর খনিতে বন্দী করে রাখা হলো, পরে দাস হিসেবে বিক্রি করা হলো। অ্যাথেন্স আর সেই ধাক্কা সামলাতে পারেনি। এক দশকের মধ্যে শহর আত্মসমর্পণ করল।একটা যুদ্ধ। একটা সিদ্ধান্তহীন নেতা। একটি সাম্রাজ্যের শেষ। পর্তুগালের তরুণ রাজার ভুল১৫৭৮ সাল। পর্তুগাল তখনো একটি সাম্রাজ্য — কিন্তু আগের জৌলুস নেই।রাজা সেবাস্তিয়ান তরুণ, উগ্র, ধর্মীয় উন্মাদনায় মত্ত। তিনি স্থির করলেন — মরক্কোতে গিয়ে মুসলিম শক্তিকে চূর্ণ করবেন। এটাই হবে তাঁর মহান অভিযান।আলকাসার কুইবিরের যুদ্ধে পুরো সেনাবাহিনী শেষ হয়ে গেল।আট হাজার পর্তুগিজ সৈন্য মাটিতে পড়ল, পনেরো হাজার বন্দী হলো। মাত্র একশো জন পালাতে পারল।এরপর? পর্তুগাল টানা ষাট বছর স্পেনের অধীনে চলে গেল। আর সমুদ্রপথে যে একচেটিয়া ব্যবসা ছিল, তা আর কখনো ফিরে পেল না। স্পেনের পর্বতে আটকে যাওয়া১৯২০ সাল। স্পেন সবে ১৮৯৮ সালে আমেরিকার কাছে হেরে কিউবা, ফিলিপাইন হারিয়েছে। রাজা তেরোতম আলফনসো সেই ক্ষত ভুলতে চাইলেন মরক্কোতে নতুন জয়ের স্বপ্নে।হলো উল্টো।মরক্কোর পাহাড়ে বারবার যোদ্ধারা স্পেনের বারো হাজার সৈন্য মেরে ফেলল। তার পরও স্পেন আরও দেড় লক্ষ সৈন্য পাঠাল। বিষাক্ত গ্যাস দিয়ে গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হলো।শেষ পর্যন্ত জয় এলো — কিন্তু দেশের ভেতরে আসল ক্ষতিটা হয়ে গিয়েছিল। সেই যুদ্ধ থেকে জন্ম নেওয়া জেনারেল ফ্রাঙ্কো পরে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ফিরে এলেন গৃহযুদ্ধ নিয়ে। স্পেনে চল্লিশ বছরের স্বৈরশাসন শুরু হলো।একটা পর্বতের লড়াই। একটা গণতন্ত্রের মৃত্যু। সুয়েজে ব্রিটেনের মুখ পুড়ল১৯৫৬ সাল। মিশরের প্রেসিডেন্ট নাসের সুয়েজ খাল নিজের দেশের হাতে নিলেন।ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ইডেন ক্ষেপে গেলেন। তাঁর মুখে এলো — "আমি তাকে ধ্বংস করতে চাই।" গোয়েন্দা সংস্থা নাসেরকে হত্যার চেষ্টা করল, ব্যর্থ হলো। তারপর ফ্রান্স আর ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে সামরিক হামলা হলো।নাসের চুপ করে বসে রইলেন না। তিনি পাথর-ভরা পুরনো জাহাজ সুয়েজ খালের মুখে ডুবিয়ে দিলেন। তেলের পথ বন্ধ হলো।ব্রিটেন জাতিসংঘে তিরস্কৃত হলো। পাউন্ড ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছে হাত পাততে হলো। একসময়ের 'যে সাম্রাজ্যে সূর্য অস্ত যায় না' — সে অস্তে গেল। এবার হরমুজে আমেরিকা২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়। শুল্কযুদ্ধে চীন তাঁকে পিছু হটিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড দাবি ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা শুরু হলো।প্রথম সপ্তাহে মার্কিন বোমা ইরানের নেতৃত্ব, নৌবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষা ধ্বংস করল। মনে হলো — দ্রুত জয় আসছে।কিন্তু ইরান ঠিক নাসেরের মতো কাজ করল।হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হলো। ড্রোন দিয়ে পাঁচটি জাহাজে আঘাত। পারস্য উপসাগর থেকে তেল, গ্যাস, সার — সব আসা বন্ধ। বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সংকট শুরু।মার্চের শেষে ইরান জাহাজ চলাচলের অনুমতির বিনিময়ে 'টোল' আদায় শুরু করল।সোজা কথায় — বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী একটি সরু সমুদ্রপথ খুলতে পারছে না।ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন — "আজ রাতে একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।" ইউরোপ-সহ ঘনিষ্ঠ মিত্ররা সাহায্য করতে অস্বীকার করল। ট্রাম্প তাদের "কাপুরুষ" বললেন।আর বিশ্ব ভাবতে শুরু করল — চীন হয়তো আরও নির্ভরযোগ্য। ইতিহাস যা বলেঅ্যাথেন্স, পর্তুগাল, স্পেন, ব্রিটেন — প্রতিটি ঘটনায় একটাই প্যাটার্ন।ক্ষমতা কমছে। নেতা ঘাবড়ে যাচ্ছেন। একটা বড় যুদ্ধে নেমে পড়ছেন — মনে করছেন এটাই সব ঠিক করে দেবে। কিন্তু এই যুদ্ধ শুধু দেখিয়ে দেয় — সাম্রাজ্য আসলে কতটা দুর্বল হয়ে গেছে।হরমুজে বোমার শব্দ যখন থামবে, তখন দুনিয়া দেখবে — জোট ভেঙেছে, বিশ্বাসযোগ্যতা কমেছে, আর আমেরিকার 'পৃথিবীর পুলিশ' হওয়ার দিন শেষ হয়েছে।আড়াই হাজার বছর আগে প্লুটার্ক যা লিখেছিলেন, সেটা আজও সত্যি — পড়তে থাকা সাম্রাজ্যের শেষ যুদ্ধটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক।

২০২৬ এর বিশ্বকাপ আসরে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আছেন কারা?

লাইভ / ২০২৬ এর বিশ্বকাপ আসরে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আছেন কারা?

২০২৬ বিশ্বকাপের শুরু থেকেই গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে লেগেছে দারুণ উত্তাপ। আসরের শুরুতেই গোলের বন্যা বইয়ে দিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে সবার আগে নিজের নাম লিখিয়েছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই অসাধারণ এক হ্যাটট্রিক করে তিনি গোলদাতার তালিকার চূড়ায় অবস্থান করছেন। মেসির এই নৈপুণ্যে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে এই তিন গোল তাকে বিশ্বকাপে মোট ১৬ গোলের মাইলফলকে পৌঁছে দিয়েছে, যা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডের সমান।মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন কানাডার জোনাথন ডেভিড। কাতারের বিপক্ষে তিনিও হ্যাটট্রিক করে আপাতত তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে ডেভিডের ৭৯তম ম্যাচে ৪২তম গোল।টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডেই জোড়া গোল করে তালিকার পরবর্তী স্থানগুলো দখল করে নিয়েছেন একঝাঁক তারকা ফুটবলার। এই তালিকায় রয়েছেন ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ম্যাথিউস কুনহা, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে, নরওয়ের আর্লিং হলান্ড, জার্মানির কাই হাভার্টজ, সুইডেনের ইয়াসিন আইয়ারি, নিউজিল্যান্ডের এলাইজা জাস্ট, সুইজারল্যান্ডের জোহান মানজাম্বি, কানাডার সাইল লারিন, যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগুন এবং মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি।ফ্রান্সের জার্সিতে সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে রেকর্ড গড়েছেন এমবাপে। এই গোল দুটির সুবাদে তিনি এখন ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট নিজের করে নিয়েছেন। অন্যদিকে, ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ের জয়ে জোড়া গোল করে নিজের জাত চিনিয়েছেন আর্লিং হলান্ড। ব্রাজিলিয়ান তারকা কুনহা ও ভিনিসিয়ুসও হাইতির বিপক্ষে জোড়া গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছেন।বিশ্বকাপের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে এখনো। তবে মেসি, এমবাপে, কেইন ও হলান্ডের মতো গোলমেশিনদের বিধ্বংসী শুরু ইঙ্গিত দিচ্ছে, এবারের গোল্ডেন বুট জেতার লড়াইটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক মহাকাব্য।

অনলাইন জরিপ
১৬ জুন ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র কখনোই একসঙ্গে চলতে পারে না—জন্মের পর থেকেই এটি আমার উপলব্ধি।’ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র কখনোই একসঙ্গে চলতে পারে না—জন্মের পর থেকেই এটি আমার উপলব্ধি।’ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
 বাস ও হেলিকপ্টারে নতুন কর আরোপ

বাস ও হেলিকপ্টারে নতুন কর আরোপ

বিলাসবহুল যাতায়াত ব্যবস্থায় খরচ বাড়াতে যাচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ডাবলডেকার এসি বাস, স্লিপার কোচ এবং হেলিকপ্টারের মালিকদের ওপর নতুন করে অগ্রিম কর আরোপ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন যাত্রী ও করপোরেট সেবা গ্রহণকারীরা।নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ডাবলডেকার এসি বাস ও স্লিপার কোচের মালিকদের এখন থেকে প্রতিবছর ৫০ হাজার টাকা হারে অগ্রিম কর পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া আকাশপথে যাতায়াতের জনপ্রিয় মাধ্যম হেলিকপ্টারের মালিকদের বার্ষিক ১০ লাখ টাকা করে অগ্রিম কর দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।সাধারণত মোটরযানের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের সময় এই অগ্রিম কর পরিশোধ করতে হবে। কর পরিশোধের চালান দাখিল না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের কোনো ছাড়পত্র দেবে না। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বাড়তি খরচের বোঝা সামলাতে শেষ পর্যন্ত বাস অপারেটর ও হেলিকপ্টার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে।বর্তমানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও রংপুরের মতো দূরপাল্লার রুটে বিলাসবহুল এসি ডাবলডেকার বাস ও স্লিপার কোচের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। পাশাপাশি করপোরেট যাতায়াত, জরুরি রোগী পরিবহন এবং ভিআইপি ভ্রমণে হেলিকপ্টারের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ খাতের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ওপর সরকারের এই কর আরোপ যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ হতে পারে।শুধুমাত্র যাত্রী পরিবহন নয়, বাজেটে ভারী যানবাহন মালিকদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করা হয়েছে। এখন থেকে ভারী ট্রাক, লরি, প্রাইমমুভার, ক্রেন, ড্রেজার ও রোলারমালিকদেরও নির্ধারিত হারে অগ্রিম কর দিতে হবে। সব মিলিয়ে পরিবহন খাতের বিভিন্ন স্তরে নতুন এই কর আরোপের প্রভাব জনজীবনে কতটা পড়বে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

নিঃসঙ্গতার অন্ধকারে আল্লাহর আশ্বাস: মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তির বার্তা

নিঃসঙ্গতার অন্ধকারে আল্লাহর আশ্বাস: মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তির বার্তা

 জীবনের কোনো কোনো ধাপে মানুষ যখন চরম নিঃসঙ্গতায় নিমজ্জিত হয়, চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করে কিংবা দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর গোনে, তখন মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, হয়তো সৃষ্টিকর্তাও তাকে ভুলে গেছেন। হতাশার এমন ঘনঘোর অন্ধকারে মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তির পরশ হয়ে আসে পবিত্র কুরআনের অনন্য কিছু বাণী। পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা সুরা আদ-দুহার ৩ নম্বর আয়াতে নবী করিম (সা.)-কে লক্ষ্য করে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমার রব তোমাকে ত্যাগ করেননি এবং তিনি তোমার প্রতি অসন্তুষ্টও নন।’ এই আয়াতটি কেবল নবীজির জন্য সান্ত্বনা ছিল না, বরং কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি ব্যথিত ও ক্লান্ত হৃদয়ের জন্য এটি এক শাশ্বত আশ্বাস।মুমিনের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কোনো না কোনো পরীক্ষায় ঘেরা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বারংবার আশ্বস্ত করেছেন যে, কষ্টের সাথেই স্বস্তি বিদ্যমান। সুরা আলাম নাশরাহর ৫ ও ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।’ এই দ্বিমুখী আশ্বাস এটাই প্রমাণ করে যে, কোনো সংকটই চিরস্থায়ী নয়; প্রতিটি কঠিন সময়ের পরেই অবধারিতভাবে আলোর দেখা মিলবে। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, মুমিনের জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিই তার জন্য কল্যাণকর। যদি সে সুখে থাকে তবে কৃতজ্ঞতায় রত থাকে, আর দুঃখে থাকলে ধৈর্যের মাধ্যমে নিজের মর্যাদা বাড়িয়ে নেয়।আল্লাহ সম্পর্কে বান্দার ধারণা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে কুদসিতে উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেমন ধারণা পোষণ করে, আমি তার সাথে তেমনই আচরণ করি।’ তাই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সৃষ্টিকর্তার দয়া ও পরিকল্পনার ওপর আস্থা হারানো উচিত নয়। হয়তো আমাদের কোনো চাওয়া তাৎক্ষণিক পূরণ হচ্ছে না, কিন্তু এর পেছনে মহান রবের কোনো উত্তম ফয়সালা সংরক্ষিত রয়েছে।কখনো যদি মনে হয় আপনি একা হয়ে গেছেন, দোয়ার উত্তর পেতে দেরি হচ্ছে কিংবা পথ চলা কঠিন হয়ে পড়েছে, তবে মনে রাখবেন—আপনি পরীক্ষার মধ্যে থাকতে পারেন, কিন্তু পরিত্যক্ত নন। আল্লাহ আপনাকে দেখছেন, শুনছেন এবং আপনার জন্য সর্বোত্তম সময়টি নির্ধারণ করে রেখেছেন। হতাশার পরিবর্তে তাঁর অসীম রহমতের ওপর ভরসা করাই মুমিনের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য। আজকের ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কেবল এই বিশ্বাসটুকু ধারণ করুন যে, অন্ধকার যত গভীরই হোক না কেন, আপনার রব আপনাকে ছেড়ে যাননি। তাঁর প্রতি এই অবিচল বিশ্বাসই জীবনের সব হতাশা কাটিয়ে নতুন করে বাঁচার প্রেরণা জোগাবে।

সব বিভাগের খবর

গরমে চুলকানি ও র‍্যাশের ভয়: পোশাকের ভুল থেকে সাবধান

গরমে চুলকানি ও র‍্যাশের ভয়: পোশাকের ভুল থেকে সাবধান

প্রচণ্ড গরম আর ভ্যাপসা আবহাওয়ায় শরীর থেকে ঘাম হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এই ঘাম যদি ঠিকমতো না শুকায়, তবে তা থেকেই ত্বকে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। পরিণতি হিসেবে দেখা দেয় অস্বস্তিকর র‌্যাশ, চুলকানি ও ফুসকুড়ি। অনেকেই মনে করেন এ সমস্যা শুধু আবহাওয়ার কারণেই হচ্ছে, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন—দৈনন্দিন পোশাক বাছাইয়ের ভুল ও অযত্নও এর বড় কারণ হতে পারে।কেন পোশাক চুলকানির কারণ হয়?পোশাকের উপাদানের ওপর আরাম অনেকটা নির্ভর করে। নাইলন, পলিয়েস্টার বা সিল্কের মতো কৃত্রিম তন্তুর কাপড় ঘাম শোষণ করতে পারে না। ফলে ত্বকের ওপর ঘাম জমে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে, যা ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জন্মানোর আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। এছাড়া অতিরিক্ত আঁটসাঁট বা টাইট পোশাক পরলে ত্বকে বাতাস চলাচল করতে পারে না। কাপড়ের সাথে ত্বকের ঘর্ষণে ত্বক ছিলে গিয়ে চুলকানি ও র‌্যাশের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়।গরমে সুস্থ থাকার উপায়:উপাদান ও ধরন: গরমের মৌসুমে সব সময় ত্বকবান্ধব সুতি বা লিনেন কাপড় বাছাই করুন। কৃত্রিম তন্তুর পোশাক এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। পোশাক হতে হবে ঢিলেঢালা, যাতে শরীরের ভেতর পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের সুযোগ থাকে।পরিচ্ছন্নতা: ঘাম হওয়ার কারণে এ সময় প্রতিদিনের পোশাক সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলা অপরিহার্য। তবে ধোয়ার পাশাপাশি পোশাক রোদে বা খোলা বাতাসে খুব ভালোভাবে শুকানো জরুরি। ঘর্মাক্ত জামা না ধুয়ে বারবার পরলে সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।অন্তর্বাসের সতর্কতা: শরীরে লেগে থাকে বলে অন্তর্বাসের পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে বেশি জরুরি। এগুলো যেন সবসময় পরিষ্কার থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।শুকানোর সঠিক পদ্ধতি: ওয়াশিং মেশিনের ড্রায়ার ব্যবহার না করে পোশাক অন্তত দুই ঘণ্টা সরাসরি সূর্যের আলো বা উন্মুক্ত বাতাসে মেলে রাখা উচিত। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি কাপড়ের জীবাণু নাশ করতে সাহায্য করে।মৌসুম অনুযায়ী সঠিক পোশাক নির্বাচন কেবল স্টাইল বা স্বাচ্ছন্দ্য নয়, বরং এটি আপনার ত্বককে সুস্থ রাখার প্রাথমিক শর্ত। তাই কেতাদুরস্ত হওয়ার চেয়ে আরামদায়ক ও ত্বকবান্ধব পোশাকের দিকেই নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

এআই চাকরি কেড়ে নেবে না, বরং বাড়বে শ্রমের চাহিদা: জেফ বেজোস

এআই চাকরি কেড়ে নেবে না, বরং বাড়বে শ্রমের চাহিদা: জেফ বেজোস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি—বিশ্বজুড়ে চলমান এই উদ্বেগকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। প্যারিসে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলন ‘ভিভাটেক’-এ তিনি দাবি করেছেন, এআই প্রযুক্তির প্রসারে মানুষের চাকরি যাওয়ার বদলে বরং বাজারে শ্রমের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যাবে।এআই নিয়ে প্রযুক্তিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের একাংশের সতর্কবার্তার বিপরীতে বেজোস বলেন, ‘অনেকের ধারণা এআই মানুষকে কর্মহীন করে তুলবে, আমি এর সাথে পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করি। বরং আমার বিশ্বাস, এআই ভবিষ্যতে বাজারে বড় ধরনের শ্রমের ঘাটতি তৈরি করবে।’ তার মতে, মানুষের মেধার অভাব নেই, বরং কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তারা পিছিয়ে থাকে; এআই সেই বাধাগুলো দূর করে মানুষকে আরও দক্ষ করে তুলবে। সম্মেলনে তিনি তার নতুন এআই প্রজেক্ট ‘প্রমিথিউস’-এর কথা উল্লেখ করেন, যা মূলত উৎপাদন শিল্পকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে।তবে বেজোসের এই আশাবাদের সঙ্গে সব পক্ষ একমত নয়। যুক্তরাজ্যের ‘ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস’ সতর্ক করে বলেছে, সঠিক নীতিমালা না থাকলে এআই-এর সুফল কেবল শেয়ারহোল্ডারদের পকেটে যাবে, আর সাধারণ কর্মীরা পরিস্থিতির শিকার হবেন।মহাকাশ গবেষণার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে বেজোস জানান, তার প্রতিষ্ঠান ‘ব্লু অরিজিন’-এর মূল লক্ষ্য কেবল চাঁদে ভ্রমণ নয়, বরং সেখানে স্থায়ী বসতি স্থাপন করা। তিনি জানান, তড়িৎবিশ্লেষণ বা ‘ইলেক্ট্রোলাইসিস’ প্রক্রিয়ায় চাঁদের সম্পদ ব্যবহার করে রকেটের জ্বালানি তৈরির মাধ্যমে সেখানে দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব। ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি ধাক্কা হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা না ঘটায় তারা দ্রুতই আবার কাজ শুরু করতে পেরেছেন। স্পেসএক্স-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতার বাজারে চলতি বছরের শেষ নাগাদ তারা নতুন উৎক্ষেপণের আশা করছেন।সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ইউনিট্রি’ কোম্পানির হিউম্যানয়েড রোবট, যা ফরাসি নিউরো-এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সরাসরি মানুষের মস্তিষ্কের তরঙ্গের সংকেত বুঝে কাজ করতে সক্ষম। কোনো রিমোট কন্ট্রোল ছাড়াই ইইজি হেডব্যান্ডের মাধ্যমে রোবটটির এই নিয়ন্ত্রিত গতিবিধি প্রমাণ করে যে, এআই এখন আর চ্যাটবটের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। স্বাস্থ্যসেবা থেকে উৎপাদন শিল্প—ভবিষ্যতে মানুষ ও মেশিনের এমন নিবিড় সহাবস্থানই হতে চলেছে নতুন বাস্তবতার ভিত্তি।

শ্রমবাজারের প্রয়োজনে চীনে ১২ হাজার ডিগ্রি বাতিল

শ্রমবাজারের প্রয়োজনে চীনে ১২ হাজার ডিগ্রি বাতিল

উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে চীন। শ্রমবাজারের বর্তমান চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল—এই পাঁচ বছরে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ১২ হাজার ২০০টি স্নাতক পর্যায়ের ডিগ্রি প্রোগ্রাম বাতিল করা হয়েছে। চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিশালসংখ্যক ডিগ্রি প্রোগ্রাম এখন আর সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না, তাই সেগুলোকে অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত করে ঝেড়ে ফেলেছে দেশটির শিক্ষা প্রশাসন।বাতিল করা এই ডিগ্রিগুলোর বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মানবিক বিদ্যা, শিল্পকলা, ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন বিদেশি ভাষার কোর্স। এক সময় এসব বিষয় জনপ্রিয় থাকলেও বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এগুলোকে অনেকটাই বাজার-অপ্রাসঙ্গিক মনে করছে বেইজিং। তবে শিক্ষার এই জায়গাগুলোকে খালি রাখছে না চীন। বাতিল হওয়া প্রোগ্রামের পরিবর্তে ১০ হাজার ২০০টি নতুন কোর্স চালু করা হয়েছে, যা সরাসরি বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নয়ন লক্ষ্য এবং কর্মসংস্থানের চাহিদা মাথায় রেখেই তৈরি।দেশটির মোট ডিগ্রি প্রোগ্রামের প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি অংশ এখন এই নতুন কাঠামোর আওতায় আসছে। চীনের নীতিনির্ধারকদের লক্ষ্য—তরুণ প্রজন্ম কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে না, বরং তারা এমন সব দক্ষতা অর্জন করবে যা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক প্রয়োগযোগ্য। অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি বজায় রাখতে এবং বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষাব্যবস্থাকে এভাবে আমূল ঢেলে সাজানোর এমন নজির বিশ্বে বেশ বিরল। ডিগ্রি পরিবর্তনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কেবল সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি চীনের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী করার এক কৌশলগত পদক্ষেপ।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কঠোর সরকার: মোবাইল কোর্ট চলমান, লার্ভা মিললেই জরিমানা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কঠোর সরকার: মোবাইল কোর্ট চলমান, লার্ভা মিললেই জরিমানা

এবারের ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। রক্তক্ষরণের ঝুঁকিসম্পন্ন ‘হেমোরোজিক’ ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা মাথায় নিয়ে দেশজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার সকালে ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে তিন মাসের বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি জানান, ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখন থেকে প্রতি দুই থেকে তিন দিন অন্তর রাজধানীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। লার্ভা মিললেই আইনানুগ ব্যবস্থা ও মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, এবারের ডেঙ্গুর রূপটি অত্যন্ত ভয়ংকর হতে পারে। আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি হওয়া ‘হেমোরোজিক’ ডেঙ্গু জীবনকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষকে আগে থেকেই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।এদিকে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সিটি করপোরেশনের নেওয়া প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম। তিনি জানান, তাদের জরিপে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৩টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে রাখা হয়েছে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ক্যাটাগরিতে।প্রশাসক আবদুস সালাম মনে করেন, কেবল সরকারি সংস্থা বা সিটি করপোরেশনের একক প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু নির্মূল করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সিটি করপোরেশনের ৫০ শতাংশ দায়িত্ব এবং নাগরিকদের সচেতনতামূলক ৫০ শতাংশ—এই দুইয়ের সমন্বয়েই কেবল রাজধানীকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কেহস কালচারঃ সোশ্যাল মিডিয়ার জৌলুশ খুঁজছে বাস্তবতার স্পর্শ

কেহস কালচারঃ সোশ্যাল মিডিয়ার জৌলুশ খুঁজছে বাস্তবতার স্পর্শ

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ট্রেন্ড হলো ‘কেহস কালচার’(Chaos Culture) বা বিশৃঙ্খল বা একেবারে অপরিশোধিত জীবনকে সাদরে গ্রহণ করা। আগে ফিল্টার আর এডিটিংয়ের আড়ালে নিজেকে বা নিজের কাজকে নিখুঁত করার যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ছিল, মানুষ এখন তা থেকে মুক্তি চাইছে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে স্ক্রিপ্ট দেখে কথা বলার চেয়ে, নিজের অগোছালো ঘর বা দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো ভুল-ত্রুটিগুলো এখন বেশি এনগেজমেন্ট তৈরি করছে। এটি প্রমাণ করে যে, দর্শক এখন ‘পারফেক্ট’ কনটেন্টের চেয়ে ‘রিলেটেবল’ বা নিজের সাথে মেলানো যায় এমন কনটেন্টকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আমাদের দৈনন্দিন কাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঠিকই, তবে এর ব্যবহারিক দিকটি বদলেছে। এখন আর কেবল এআই দিয়ে সবকিছু তৈরি করে ফেলাটা মূল লক্ষ্য নয়; বরং এআইকে ব্যবহার করে মানুষের সৃজনশীলতাকে আরও ধারালো করা হচ্ছে। এআই এখন একজন ডিজিটাল সহকারীর মতো—যা ভিডিও এডিটিং বা আইডিয়া জেনারেশনে সময় বাঁচিয়ে দিচ্ছে, যাতে মূল নির্মাতা নিজের আবেগকে কনটেন্টে ঢালার জন্য সময় পাচ্ছেন। যারা কেবল এআই দিয়ে কনটেন্ট তৈরি করছেন, তাদের চেয়ে যারা এআই-কে টুল হিসেবে ব্যবহার করে মানুষের অনুভূতির সাথে মিশিয়ে ফেলছেন, তারাই এখন সফল।বাংলাদেশে বর্তমানে যে 'ক্রেয়ন স্টাইল প্রোফাইল ডিজাইন' বা হাতে আঁকা শৈল্পিক প্রোফাইল পিকচার ভাইরাল হয়েছে, তা এই পরিবর্তনেরই একটি বহিঃপ্রকাশ। নিখুঁত বা হাই-ডেফিনিশন ছবির ভিড়ে এই ক্রেয়ন আর্ট বা ডুল আর্ট স্টাইল এক ধরনের নস্টালজিয়া ও সৃজনশীলতার আরামদায়ক অনুভূতি তৈরি করছে। মানুষ এখন প্রযুক্তির উৎকর্ষের মধ্যেও সেই শৈশবের সারল্যকে খুঁজে নিতে চাইছে। এই প্রবণতাটি এটাই নির্দেশ করে যে, কনটেন্টের আড়ম্বর যত কম হবে, মানুষের সাথে সংযোগ তত বাড়বে।সোশ্যাল মিডিয়ার এই ট্রেন্ডগুলো কিন্তু একটি বার্তাই দেয়—এখন আর বড় প্ল্যাটফর্ম বা অনেক বেশি ফলোয়ারের প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট কিছু মানুষের কাছে নিজের কথা বা সৃজনশীলতা পৌঁছে দেওয়াই হলো আসল সার্থকতা। ছোট বা মাঝারি প্ল্যাটফর্মে যে এনগেজমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে, তা বৃহৎ পরিসরের প্রচারণার চেয়ে অনেক বেশি গভীর ও কার্যকর।সুতরাং, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির এই নতুন যুগে সাফল্যের চাবিকাঠি হলো—নিখুঁত হওয়ার বদলে সৎ থাকা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গতি আর মানুষের হৃদয়ের উষ্ণতাকে মিলিয়ে যারা চলতে পারবেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় তারাই হবেন আগামী দিনের প্রকৃত জয়ী।

সীতাকুণ্ডে র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার আসামি আলী আকবর গ্রেফতার

বহুল আলোচিত সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকা থেকে র‍্যাব কর্মকর্তা আবদুল মোতালেব হত্যা মামলার আসামি আলী আকবরকে (২৬) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৭। শুক্রবার রাতে সলিমপুর ইউনিয়নের ছিন্নমূল ১ নম্বর সমাজ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার আলী আকবর একই এলাকার আলী আহমদের ছেলে।শনিবার বিকালে র‍্যাব-৭ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বাহিনীটির সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেফতার আলী আকবরের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের অতর্কিত ও নির্মম হামলায় র‍্যাব-৭ এর কর্মকর্তা আবদুল মোতালেব নিহত হন। সেই ঘটনায় র‍্যাবের আরও চার সদস্যকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছিল দুর্বৃত্তরা। ওই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির আওতায় রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে র‍্যাবের গোয়েন্দা কার্যক্রম ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

বিস্তারিত

পাবনায় ছাদে পানি সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দোকান কর্মীর মৃত্যু

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর বাজারে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় শাহাদাৎ (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে বাজারের একটি ভবনের ছাদে পানি সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়। শাহাদাৎ ওই বাজারের ‘আকুল স্টোর’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের ছাদের ওপর বৃষ্টির পানি জমেছিল। সেই পানি নিচে অবস্থিত আকুল স্টোরের ওপর পড়ছিল, যা দোকানের মালামাল নষ্ট করছিল। বৃষ্টির পানি পড়া বন্ধ করতে শাহাদাৎ ওই ভবনের ছাদে ওঠেন। ছাদে ওঠার পর অসাবধানতাবশত পা পিছলে নিচে থাকা বৈদ্যুতিক তারের ওপর পড়ে যান তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।শাহাদাৎকে ছটফট করতে দেখে বাজারের ‘সিটি কাপড়’ দোকানের ব্যবসায়ী আক্তার তাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে যান। এ সময় তিনিও বিদ্যুতায়িত হয়ে আহত হন। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শাহাদাতের মরদেহ উদ্ধার করে। আহত ব্যবসায়ী আক্তারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিহত শাহাদাতের মরদেহ তার নিজ গ্রাম কদমডেঙাতে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেন। শাহাদাতের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। কদমডেঙা গ্রামের বাড়িতে এখন স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।এদিকে ঘটনার পরপরই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বাজার এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তার এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা এ ধরনের প্রাণহানি এড়াতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিস্তারিত

পাবনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: গ্রেপ্তার যুবদল নেতা কাশেম

পাবনায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ইউনিয়ন যুবদল নেতা আবুল কাশেম শেখকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার ভোরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদল। অভিযুক্ত কাশেম পাবনার আতাইকুলা থানার আড়িয়াডাংগী গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।গত ১১ জুন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এই ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরদিন ১২ জুন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই এলাকা জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পর থেকেই অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে আতাইকুলা থানা পুলিশ মাঠে নামে।আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, অপরাধী গা ঢাকা দিলেও পুলিশের বিশেষ দল সারারাত অভিযান চালিয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।অন্যদিকে, রোববার রাতে দলীয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইউনিয়ন যুবদল থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, সংগঠনের সব পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এই বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি এখন স্থানীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

বিস্তারিত

পটুয়াখালীতে শিশু ধর্ষণ: লম্পট বৃদ্ধ গ্রেফতার, এলাকাজুড়ে ক্ষোভ

পটুয়াখালীর ছোটবিঘাই ইউনিয়নে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী ট্রলার চালক মো. দুলাল গাজীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার (১৫ জুন) সকালে সদর উপজেলার মাটিভাংগা গ্রামে এই পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের ক্ষোভ ও প্রশাসনের তৎপরতায় অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে মাটিভাংগা গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় ট্রলার চালক দুলাল গাজী শিশুটিকে একা পেয়ে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ও কান্না দেখে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ছোটবিঘাই ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও যুবসমাজ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অবুঝ শিশুর ওপর এমন নির্যাতন কেবল আইনি অপরাধ নয়, বরং সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের চরম নিদর্শন।বিষয়টি জানার পরপরই পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অভিযানে নামে। জনরোষের মুখে অভিযুক্ত লম্পট দুলাল গাজী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ দ্রুত তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি কঠোর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং দ্রুত চার্জশিট প্রদানের মাধ্যমে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এলাকাবাসী এখন আইনের দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছেন।

বিস্তারিত

পাবনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: গ্রেপ্তার যুবদল নেতা কাশেম

১৬ জুন ২০২৬, ১২:০১ পিএম
পাবনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: গ্রেপ্তার যুবদল নেতা কাশেম

কলকাতায় মোশাররফ করিম ও তার স্ত্রীর ওপর হামলার চেষ্টা

১৬ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
কলকাতায় মোশাররফ করিম ও তার স্ত্রীর ওপর হামলার চেষ্টা

কোরবানিকে কেন্দ্র করে ফের সক্রিয় অজ্ঞানপার্টি: প্রাণ গেল এক ব্যক্তির

২১ মে ২০২৬, ০২:১৬ এএম
কোরবানিকে কেন্দ্র করে ফের সক্রিয় অজ্ঞানপার্টি: প্রাণ গেল এক ব্যক্তির

জলবায়ু পরিবর্তন নাকি কৃত্রিম হস্তক্ষেপ

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২১ এএম
জলবায়ু পরিবর্তন নাকি কৃত্রিম হস্তক্ষেপ

রামিসা হত্যাকাণ্ডে আতঙ্কিত নগরজীবন; বিপর্যস্ত শৈশব ও অভিভাবকত্বের সংকট

২২ মে ২০২৬, ০২:২০ পিএম
রামিসা হত্যাকাণ্ডে আতঙ্কিত নগরজীবন; বিপর্যস্ত শৈশব ও অভিভাবকত্বের সংকট

অনুমোদন পেল নতুন ৫ উপজেলা সহ বগুড়া সিটি করপোরেশন

৭ মে ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
 অনুমোদন পেল নতুন ৫ উপজেলা সহ বগুড়া সিটি করপোরেশন

মরা পদ্মার বুকে পঞ্চাশ বছরের কান্না

১৬ মে ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
মরা পদ্মার বুকে পঞ্চাশ বছরের কান্না

পাবনায় ছাদে পানি সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দোকান কর্মীর মৃত্যু

১৮ জুন ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
পাবনায় ছাদে পানি সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দোকান কর্মীর মৃত্যু

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের

৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
ফজলুর রহমানের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের

জনআকাঙ্ক্ষা বনাম ক্ষমতার রাজনীতি

৩ মে ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
জনআকাঙ্ক্ষা বনাম ক্ষমতার রাজনীতি

মালয়েশিয়াকে শ্রমবাজার দ্রুত খোলার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

২২ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
মালয়েশিয়াকে শ্রমবাজার দ্রুত খোলার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নামছে ১৮ হাজার পুলিশ, চেকপোস্ট ২০০

২২ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নামছে ১৮ হাজার পুলিশ, চেকপোস্ট ২০০

ভাঙছে ইতিহাসের রেকর্ড: চরম তাপদাহে পুড়ছে ইউরোপ, জারি জরুরি নিষেধাজ্ঞা

২২ জুন ২০২৬, ১১:৩০ এএম
ভাঙছে ইতিহাসের রেকর্ড: চরম তাপদাহে পুড়ছে ইউরোপ, জারি জরুরি নিষেধাজ্ঞা

খুনের রাজনীতি ছাড়ুন, নয়তো আওয়ামী লীগের পরিণতি হবে: শিবির সভাপতি

২২ জুন ২০২৬, ১১:২৮ এএম
 খুনের রাজনীতি ছাড়ুন, নয়তো আওয়ামী লীগের পরিণতি হবে: শিবির সভাপতি

কুয়ালালামপুরে তারেক রহমানকে রাজকীয় অভ্যর্থনা, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পন্ন

২২ জুন ২০২৬, ১১:২৩ এএম
কুয়ালালামপুরে তারেক রহমানকে রাজকীয় অভ্যর্থনা, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পন্ন

সীমাবদ্ধতার ফ্রেমে বিশ্বজয় সামিউল করিম সুপ্তকের : সাংহাইয়ে ‘সাঁকোটা দুলছে’র রূপকথা

২২ জুন ২০২৬, ১০:০৫ এএম
সীমাবদ্ধতার ফ্রেমে বিশ্বজয় সামিউল করিম সুপ্তকের : সাংহাইয়ে ‘সাঁকোটা দুলছে’র রূপকথা

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন গুঞ্জন: বাস্তবতা ও রাজনৈতিক প্রচারণার গোলকধাঁধা

২২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন গুঞ্জন: বাস্তবতা ও  রাজনৈতিক প্রচারণার গোলকধাঁধা

নেতানিয়াহু কি তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চুক্তি ভেস্তে দিচ্ছেন?

২২ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
নেতানিয়াহু কি তবে  যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চুক্তি ভেস্তে দিচ্ছেন?

পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শীর্ষ বৈঠক শুরু : কৌশলগত সম্পর্কের নতুন সূচনা

২২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
 পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শীর্ষ বৈঠক শুরু : কৌশলগত সম্পর্কের নতুন সূচনা

বিশ্বকাপের ইতিহাসে মিসরের প্রথম জয়: নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সালাহদের ইতিহাস

২২ জুন ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
বিশ্বকাপের ইতিহাসে মিসরের প্রথম জয়: নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সালাহদের ইতিহাস
ডেটা অ্যানালিস্টের গাণিতিক বুদ্ধি

ডেটা অ্যানালিস্টের গাণিতিক বুদ্ধি

আজকাল সব কিছুই ডেটা দিয়ে মাপা হয়। অফিসের বস এক তরুণ ডেটা অ্যানালিস্টকে নিজের দক্ষতা প্রমাণের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন।বস: বল তো দেখি, আমার কোম্পানির গ্রোথ রেট যদি প্রতি মাসে ৫% হয় এবং আমরা যদি বছরে ১০ কোটি টাকা ট্যাক্স দিই, তাহলে আমার বর্তমান বয়স কত? অ্যানালিস্ট: (এক সেকেন্ডও না ভেবে) স্যার, আপনার বয়স ঠিক ৫০ বছর। বস: (পুরো অবাক হয়ে) চমৎকার! তুমি তো দেখছি জাদুকর! আমার ট্যাক্স ফাইল আর গ্রোথ রেট ক্যালকুলেশন করে নির্ভুল বয়স বের করে ফেললে? কীভাবে করলে?  অ্যানালিস্ট: আরে না স্যার, ওসব কোনো ব্যাপার না। আসলে আমার এক ভাই আছে, ও 'আধা' ফাঁকিবাজ, ওর বয়স ২৫। আর আপনি অফিসের সবাইরে যেভাবে খাটান, তাতে আপনি 'পুরা' ফাঁকিবাজ। তাই আপনার বয়স ২৫ এর ডাবল—৫০ বছর!