রোনো রাউটারকে Access Point (AP) Mode এ চালিয়ে ইথারনেট কেবলের মাধ্যমে মূল রাউটারের সঙ্গে যুক্ত করুন। এতে নেটওয়ার্কের গতি ও স্থায়িত্ব বেশি থাকবে। এর জন্য রাউটার রিসেট করে, ফার্মওয়্যার আপডেট করে, LAN থেকে WAN-এ কেবল সংযোগ দিয়ে ওয়েব সেটিংসে গিয়ে AP মোড চালু করতে হবে। ২. রিপিটার মোডে তারহীন সংযোগ যদি তার টানার সুযোগ না থাকে, তাহলে রিপিটার মোড ব্যবহার করুন। এতে পুরোনো রাউটার মূল ওয়াই-ফাই সংকেত ধরবে এবং নতুন নামে পুনঃসম্প্রচার করবে। তবে মনে রাখবেন, এতে ইন্টারনেটের গতি কিছুটা কমে যায়-প্রায় অর্ধেক হতে পারে। ৩. প্রতিটি রাউটারের পদ্ধতি আলাদা হতে পারে সব রাউটার AP বা রিপিটার মোড সমর্থন করে না। তাই রাউটারের ইউজার ম্যানুয়াল বা নির্মাতার ওয়েবসাইট থেকে নির্দেশনা দেখে নিতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে থার্ড পার্টি ফার্মওয়্যার (যেমন: DD-WRT) ব্যবহার করেও বাড়তি ফিচার চালু করা সম্ভব।
অন্যদিকে একই বয়সি ছেলেদের ক্ষেত্রে এ হার মাত্র প্রতি ১০ জনে একজন। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাজ্যের পাবলিক হেলথ ওয়েলস (PHW) ও কার্ডিফ ইউনিভার্সিটি।গবেষণায় দেখা গেছে, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েরাই সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। দশম শ্রেণির ১৪-১৫ বছর বয়সি ২১ শতাংশ মেয়ে এবং নবম শ্রেণির ১৩-১৪ বছর বয়সি ২০.৫ শতাংশ মেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে জানায়। ছেলেদের ক্ষেত্রে একই বয়সে এ হার যথাক্রমে ১০.১ এবং ৯.৮ শতাংশ। ১৩ বছর বয়সি লয়েস জানায়, ‘কখনো কখনো শুধু সময় কাটানোর জন্য ফোন হাতে নিই। কিন্তু বুঝতেই পারি না কখন দুই ঘণ্টা পেরিয়ে যায়! এটা মাঝেমধ্যে ভয় পাইয়ে দেয়।’ গবেষণায় অংশ নেওয়া অনেকে জানিয়েছে, খেলাধুলা বা শখের কাজ বাদ দিয়ে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় দিচ্ছে।পিএইচডব্লিও-এর স্বাস্থ্য উন্নয়ন পরামর্শক এমিলি ভ্যান দে ভেনটার জানান, মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় বেশি সময় রাতেও ডিভাইস ব্যবহার করে এবং বেশি রিপোর্ট করে যে তারা সাইবার বুলিয়িংয়ের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু সুবিধা থাকলেও টিনএজারদের মানসিক স্বাস্থ্যর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও আত্মমূল্যায়নের ঘাটতির পেছনে এটি একটি বড় ভূমিকা রাখছে।’ তিনি আরও পরামর্শ দেন, রাতে ডিভাইসের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, ঘুমানোর ঘরে ফোন না রাখা এবং ঘুমের আগে সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশ না করার অভ্যাস তৈরি করলে সমস্যা কিছুটা কমে আসতে পারে। জরিপটিতে সপ্তম থেকে একাদশ শ্রেণির প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এটি কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, সম্পর্ক, স্কুল জীবন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের নানা দিককে ঘিরে সবচেয়ে বৃহৎ ও তথ্যবহুল জরিপগুলোর একটি
শনিবার (২৪ মে) সকালে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনে দেশের প্রথম ক্রেডিট এনহ্যান্সমেন্ট স্কিম উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।গভর্নর বলেন, ‘নতুন নোটে থাকবে দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা। ঈদে বাজারে প্রথমে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট আসবে।’টাঁকশাল থেকে জানা গেছে, ২০ টাকার নোট ছাপা প্রায় সম্পন্ন। আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর পরে ৫০ ও ১০০০ টাকার নোট বাংলাদেশ ব্যাংককে বুঝিয়ে দেবে টাঁকশাল। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে এই টাকা কবে বাজারে আসবে।টাঁকশাল জানিয়েছে, নতুন নকশার নোট ছাপাতে ১ থেকে দেড় বছর সময় লাগে। আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। গত ডিসেম্বরে নতুন নকশার নোট বাজারে আনার সিদ্ধান্ত নেয় এই সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় টাঁকশাল চলতি মাসে নতুন নকশার নোট ছাপানো শুরু করে।টাঁকশাল আরও জানায়, একসঙ্গে ৩টি নোটের বেশি ছাপানোর সক্ষমতা নেই টাঁকশালের। তাই প্রথম ধাপে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোট ছাপানো হচ্ছে।এদিকে গভর্নর জানিয়েছে, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ায় তা ফেরত পাঠাতে চাপ তৈরি হয়েছে। পাচারকৃত অর্থ ফ্রিজ করায় অর্থ ফেরত আনার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।’গভর্নর বলেন, ‘স্কিমের আওতায় পিকেএসএফ অংশীদার এমএফআই গুলোকে ২৪০ কোটি টাকার রিজার্ভ তহবিল ভিত্তিতে ব্যাংক ঋণ গ্যারান্টি দেবে। ঋণের গ্যারান্টি অনুযায়ী এককালীন ০.৫ শতাংশ কমিশন আদায় করা হবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণ পাওয়া সহজ হবে।’
ল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান মনে করেন, এসএমই খাত শুধু ব্যবসা নয়, দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। দেশে সত্যিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এ খাতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, এসএমই উদ্যোক্তারা তাদের লাভের ৩০ শতাংশই পুনরায় বিনিয়োগ করেন, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।এসএমই হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগ বা ব্যবসা। এই উদ্যোগে কর্মী এবং রাজস্বের পরিমাণ নির্দিষ্ট সীমার নিচে। বিশ্বের কোম্পানিগুলোর ৯০ শতাংশ এবং মোট কর্মসংস্থানে ৫০ শতাংশের বেশি এসএমই খাতে। এ কারণে বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এসএমইকে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। এসএমই নিয়ে তাদের আলাদা নীতিমালা রয়েছে।বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্যবসার ৯৯ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার ৯৮ শতাংশ এসএমই। তবে এ খাতে রয়েছে তহবিল সংকট।বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২১ সালের গ্লোবাল ফিনডেক্স ডাটাবেজ অনুসারে, আনুষ্ঠানিক, নারী-মালিকানাধীন এসএমইর জন্য ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘাটতি রয়েছে। এসএমই ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুসারে বর্তমানে দেশে এ শিল্পের সংখ্যা ১ কোটি ১৮ লাখ। আর এ খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষের। অর্থাৎ শিল্প খাতে দেশে কর্মসংস্থানের ৮৭ শতাংশই এ খাতের।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বরাবর ১২ দাফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়।সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন- কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন মুকুল, শফিউর রহমান শফি, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পল্টু, অ্যাডভোকেট আসাদুল ইসলাম প্রমুখ। সমাবেশে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, কৃষি হচ্ছে বাংলাদেশের বৃহত্তম খাত; কিন্তু এই খাতটি দীর্ঘদিন ধরেই চরম অবহেলার শিকার। দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৫ শতাংশ এবং গ্রামীণ নারীদের প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষিতে নিয়োজিত। কৃষি খাত দেশের জিডিপিতে ১১ দশমিক ২ শতাংশ অবদান রাখলেও সরকারিভাবে এর গুরুত্ব নেই বললেই চলে। কৃষি ও কৃষক ক্ষেতমজুর না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। কৃষি ও কৃষকের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত না হলে, দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়বে।তিনি বলেন, কৃষি উপকরণের দাম যেমন বেড়েই চলেছে, তেমনি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ১১ লাখ কৃষক জমি হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়ছে। বাজার ভরে গেছে ভেজাল সার, বীজ ও কীটনাশকে। যার ফলে কৃষকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ক্ষেতমজুরদের বছরে গড় কাজ থাকে ১৮০ দিনেরও কম। ‘আমি রেটে’ গ্রামীণ রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিও বছরের পর বছর ধরে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।দেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে হলে খাদ্য নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে তিনি জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০ শতাংশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি। তাদের দাবিগুলো হলো-
দেশের বন্দরে একের পর এক জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ভিড়ছে। কিন্তু ডিপোর ট্যাঙ্ক প্রায় পূর্ণ থাকায় সব জাহাজ থেকে তেল খালাস করা যাচ্ছে না। ফলে কয়েকটি জাহাজ তেল নিয়ে সাগরে অপেক্ষা করছে বলে জানা যায়।অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মানুষকে। অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না পর্যাপ্ত জ্বালানি।বন্দর সূত্র জানায়, বর্তমানে পাঁচটি জাহাজে প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার টন জ্বালানি তেল দেশে এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার টন ডিজেল এবং ২৭ হাজার টন অকটেন রয়েছে। এরই মধ্যে দুটি জাহাজ থেকে প্রায় ৬৮ হাজার টন ডিজেল খালাস শুরু হয়েছে। ডলফিন জেটিতে নোঙর করা এমটি ওকট্রি থেকে প্রায় ৩৫ হাজার টন এবং এমটি কেপ বনি থেকে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল নামানো হচ্ছে।এ ছাড়া এমটি লিয়ান সং হু প্রায় ৪১ হাজার টন ডিজেল, এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল এবং এমটি নেভি সিয়েলো প্রায় ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে বাংলাদেশের জলসীমায় অবস্থান করছে।তবে ডিপোগুলোর সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে তেল সংরক্ষণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা মেইন পয়েন্ট ইনস্টলেশনে তিনটি বিতরণ কোম্পানি ও ইস্টার্ন রিফাইনারির অকটেন সংরক্ষণ ট্যাঙ্ক প্রায় ভরে গেছে। ফলে নতুন করে অকটেন খালাসের আগে অন্য ট্যাঙ্ক খালি করার চেষ্টা চলছে।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য বলছে, দেশে মোট অকটেন সংরক্ষণ সক্ষমতা ৫৩ হাজার ৩৬১ টন। গত ২০ এপ্রিল পর্যন্ত বিপিসির হাতে ছিল প্রায় ২৭ হাজার ৬১২ টন অকটেন। বর্তমানে আরও ২৭ হাজার টন অকটেন খালাসের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশে ২০ হাজার ৪০৪ টন অকটেন বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে বিক্রি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৩৪ টন। এই হিসাবে বর্তমান মজুত ও জাহাজে থাকা তেল মিলিয়ে অন্তত দুই মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।শুধু আমদানি নয়, দেশীয় বেসরকারি শোধনাগার থেকেও জ্বালানি সরবরাহ চলছে। চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ হাজার ১৭০ টন অকটেন সংগ্রহ করেছে বিপিসি। সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান বলছে, দেশে জ্বালানির বড় কোনো ঘাটতি নেই।তবুও পেট্রোল পাম্পে মানুষের ভোগান্তি কমছে না। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি পাম্পে দেখা গেছে, পাম্পের ভেতর থেকে শুরু হয়ে যানবাহনের লাইন প্রধান সড়ক পর্যন্ত চলে গেছে। অনেক চালককে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।মোটরসাইকেল চালক মেরাজ হোসেন বলেন, বিকেল ৫টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো তেল পাইনি।গ্রামাঞ্চলেও একই অবস্থা। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কৃষকেরা সেচ পাম্পের জন্য জ্বালানি নিতে পেট্রোল পাম্পে ভিড় করছেন। অনেকেই সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না।বেলকা ইউনিয়নের কৃষক ধীরেন চন্দ্র সরকার বলেন, এখন বোরো ধানক্ষেতে নিয়মিত পানি দিতে হয়। এক দিন পরপর পানি না দিলে ধান শুকিয়ে যেতে পারে। কিন্তু সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যাচ্ছে না।এদিকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের বড় কোনো সংকট নেই। বরং অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় অতিরিক্ত তেল কেনা এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুতের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।গতকাল তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ডিজেল মজুত রয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩৩ টন, অকটেন ২৭ হাজার ৬০২ টন, পেট্রোল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৪ টন এবং জেট ফুয়েল ২১ হাজার ৩৮২ টন।অবৈধ মজুত ঠেকাতে সরকার ইতিমধ্যে অভিযানও শুরু করেছে। ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত এ ধরনের ৫৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৪৭টি মামলায় মোট ১ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার ৭১৫ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। সূর্য উঠলেই অসহনীয় গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। তবে এই কষ্ট সবার জন্য এক নয়। রাজধানী ঢাকায় অধিকাংশ বাড়ি ও অফিসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকলেও গ্রামাঞ্চলের চিত্র একেবারেই ভিন্ন।ফরিদপুরের কৃষক রহিম উদ্দিনের মতো অনেকেই দিনের পর দিন লোডশেডিংয়ে ভুগছেন। টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সেচপাম্প বন্ধ, জমির ধান শুকিয়ে যাচ্ছে। ঘরের ভেতর গরমে শিশু কাঁদছে, পাশে জ্বলছে মোমবাতি। একই সময়ে ঢাকার অনেক বাসায় চলছে একাধিক এসি।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিনই ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে।এই ঘাটতির বড় অংশই বইছে গ্রামাঞ্চল। আগের বছরগুলোর হিসাব বলছে, মোট লোডশেডিংয়ের বেশিরভাগটাই পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এলাকায় হয়েছে। অর্থাৎ গ্রামের মানুষই বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকছেন।খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকাকে প্রায় লোডশেডিংমুক্ত রাখার একটি অঘোষিত সিদ্ধান্ত রয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে—রাজনৈতিক চাপ, শিল্পকারখানা, সরকারি দপ্তর ও গণমাধ্যমের নজর রাজধানীকেন্দ্রিক।তবে এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি। সেচ বন্ধ থাকায় ফসল নষ্ট হচ্ছে, ছোট ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী রাতে পড়াশোনা করতে পারছে না। হাসপাতালেও সেবা ব্যাহত হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার মূল কারণ শুধু উৎপাদন ঘাটতি নয়। গ্যাস সংকট, জ্বালানি আমদানির অনিশ্চয়তা এবং দুর্বল সঞ্চালন ব্যবস্থাও বড় কারণ। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও জ্বালানির অভাবে সেগুলো পুরো ক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।তারা আরও জানান, বিদ্যুৎ বণ্টনে স্বচ্ছতা নেই। কোথায় কখন লোডশেডিং হবে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষ আগে থেকে জানেন না।সমাধানের জন্য কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—সব এলাকায় সমানভাবে লোডশেডিং বণ্টন, কৃষিখাতে বিদ্যুতের অগ্রাধিকার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সঞ্চালন ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা চালু করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ এখন আর শুধু আরামের বিষয় নয়। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই বিদ্যুতের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা জরুরি।
শুক্রবার (২৩ মে) রাত ১.৩০ মিনিটে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর হাসনাইন এবং বিএসএফের পক্ষে ভারতীয় ৩ বিএসএফ ব্যাটলিয়নের এসি এসএইচএল সিমতি নেতৃত্ব দেন।এছাড়াও পতাকা বৈঠকের সময় নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাছেন আলী, ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম, ইউপি সদস্য মহির উদ্দিন বালারহাট বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার সাইদুর রহমানসহ বিজিবি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ভারত থেকে ফেরত আসা তাজুল, রবিউল, রুমি ও তানেকা বেগম জানান, তারা প্রায় ২৪/২৫ বছর আগে ভারতে কাজের সন্ধানে যান। কয়েকদিন থেকে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশিদের গ্রেফতার শুরু করলে তারা ভারতের হরিয়ানা প্রদেশের রেওয়ারী মার্কেটের রামপুরা থানার প্রজাপতি ইটভাটা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসার সময় বিএসএফের কাছে আটক হন। লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর হাসনাইন জানান, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ২৪ বাংলাদেশিকে ফেরত আনার কথা নিশ্চিত করেন।
শনিবার যশোর শহরের মণিহার মোড় ফলপট্টি এলাকায় শামস মার্কেটের দোতলা থেকে নিহত সুলতানার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বজনরা জানায়, রুমি ও শেখ শাহজাহান দম্পতি তিন মাস বয়সি শামসকে খুলনা থেকে দত্তক আনেন। শেখ শাহজাহান বছর আট আগে মারা গেছেন। ফলপট্টি এলাকায় তাদের বিশাল একটি মার্কেট রয়েছে, যার দোতলায় রুমি ও শামস থাকতেন। জাকির হোসেন নামে মার্কেটের একজন দোকানি জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি দোতলায় গিয়ে চাচিকে খোঁজ করেন। কেননা নিচে তিনি পানি পাচ্ছিলেন না। সে সময় ঘরের ভিতরে শামস ছিলেন। তিনি তাকে জানান, মা বাড়ি নেই খুলনায়। দুপুরে ফের খোঁজ নিতে গেলে শামসের কথায় তার সন্দেহ হয়। তখন তিনি মার্কেটের আরও কয়েকজনকে ডাকেন। এরপর ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশে জানানো হয়। পুলিশ অনেক জোরাজুরির পর দরজা খুললে দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে রয়েছেন রুমি। শরীরের নিচে রক্তের ধারা। এরপর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত বলেন, ওই নারীকে খুন করা হয়েছে। তার মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পালিত ছেলে বর্তমানে পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। কী কারণে, কে বা কারা এই খুনে জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গ্যাস ও বিদ্যুতের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প চাপে পড়েছে। এর প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে রপ্তানিতে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে অর্ডার সরিয়ে ভারতে নিচ্ছেন।বুধবার রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এ উদ্বেগের কথা জানান। তাদের মতে, জুলাই-আগস্ট মৌসুমের জন্য নতুন অর্ডার আগের তুলনায় কমে গেছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে শিল্পটি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী বলেন, গত কয়েক মাস ধরে পোশাক খাতে উৎপাদন কমছে। ফলে রপ্তানিতেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। টানা আট মাস ধরে রপ্তানি কমার প্রবণতা উদ্বেগজনক। তিনি এই অবস্থা কাটাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে জ্বালানি সংকট আরও প্রকট বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সেখানে ডিজেলের অভাবে অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা কমে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।ব্যবসায়ীরা বলেন, জ্বালানি সংকটের খবর আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোয় অনেক ক্রেতা নতুন অর্ডার দিতে অনীহা দেখাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর ছাড়সহ বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব দেন তারা।এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আগে থেকেও কর সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ খাতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে।সভায় ঢাকা, সিলেট, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তারা বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এই চাপ কমাতে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার পাশাপাশি করপোরেট করহার কমানোর দাবি জানান। ব্যবসায়ীদের মতে, সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত না এলে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত আরও বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
উপজেলায় ডিজেলের তীব্র সংকটে ইরি-বোরো ধানের আবাদ এখন বড় ঝুঁকিতে পড়েছে। মৌসুমের শুরুতেই জ্বালানি না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও কৃষকদের মাঝে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে সেচের অভাবে ধানক্ষেত ক্ষতির মুখে। সময়মতো পানি না পেয়ে অনেক জায়গায় ধানগাছ নুইয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও শীষে চিটা ধরার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।মাঠ ঘুরে দেখা যায়, সেচনির্ভর এসব জমিতে নিয়মিত পানি দেওয়া জরুরি। কিন্তু ডিজেল না থাকায় বেশিরভাগ সেচযন্ত্রই বন্ধ পড়ে আছে। কেউ কেউ সীমিত আকারে সেচ দিয়ে ফসল বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে জমি ফেলে রেখেছেন।কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও দাম বেশি। এতে খরচ বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুযায়ী ফলনের নিশ্চয়তা নেই।নেছারাবাদের চামি গ্রামের কৃষক খালেক বেপারী বলেন, “ধান ভালো হয়েছে। কিন্তু পানি দিতে পারছি না। ডিজেল না থাকলে সব পরিশ্রমই বৃথা যাবে। সরকারিভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার।”বিন্না গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন, “ঋণ নিয়ে চাষ করেছি। এখন যদি ফসল নষ্ট হয়, ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে যাবে।”উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, ডিজেল সংকটের কারণে সেচে সমস্যা হচ্ছে এবং এর প্রভাব মাঠে পড়ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ ব্যাহত হওয়া উদ্বেগজনক। কৃষকদের ক্ষতি কমাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
দেশের বন্দরে একের পর এক জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ভিড়ছে। কিন্তু ডিপোর ট্যাঙ্ক প্রায় পূর্ণ থাকায় সব জাহাজ থেকে তেল খালাস করা যাচ্ছে না। ফলে কয়েকটি জাহাজ তেল নিয়ে সাগরে অপেক্ষা করছে বলে জানা যায়।অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মানুষকে। অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না পর্যাপ্ত জ্বালানি।বন্দর সূত্র জানায়, বর্তমানে পাঁচটি জাহাজে প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার টন জ্বালানি তেল দেশে এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার টন ডিজেল এবং ২৭ হাজার টন অকটেন রয়েছে। এরই মধ্যে দুটি জাহাজ থেকে প্রায় ৬৮ হাজার টন ডিজেল খালাস শুরু হয়েছে। ডলফিন জেটিতে নোঙর করা এমটি ওকট্রি থেকে প্রায় ৩৫ হাজার টন এবং এমটি কেপ বনি থেকে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল নামানো হচ্ছে।এ ছাড়া এমটি লিয়ান সং হু প্রায় ৪১ হাজার টন ডিজেল, এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল এবং এমটি নেভি সিয়েলো প্রায় ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে বাংলাদেশের জলসীমায় অবস্থান করছে।তবে ডিপোগুলোর সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে তেল সংরক্ষণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা মেইন পয়েন্ট ইনস্টলেশনে তিনটি বিতরণ কোম্পানি ও ইস্টার্ন রিফাইনারির অকটেন সংরক্ষণ ট্যাঙ্ক প্রায় ভরে গেছে। ফলে নতুন করে অকটেন খালাসের আগে অন্য ট্যাঙ্ক খালি করার চেষ্টা চলছে।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য বলছে, দেশে মোট অকটেন সংরক্ষণ সক্ষমতা ৫৩ হাজার ৩৬১ টন। গত ২০ এপ্রিল পর্যন্ত বিপিসির হাতে ছিল প্রায় ২৭ হাজার ৬১২ টন অকটেন। বর্তমানে আরও ২৭ হাজার টন অকটেন খালাসের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশে ২০ হাজার ৪০৪ টন অকটেন বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে বিক্রি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৩৪ টন। এই হিসাবে বর্তমান মজুত ও জাহাজে থাকা তেল মিলিয়ে অন্তত দুই মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।শুধু আমদানি নয়, দেশীয় বেসরকারি শোধনাগার থেকেও জ্বালানি সরবরাহ চলছে। চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ হাজার ১৭০ টন অকটেন সংগ্রহ করেছে বিপিসি। সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান বলছে, দেশে জ্বালানির বড় কোনো ঘাটতি নেই।তবুও পেট্রোল পাম্পে মানুষের ভোগান্তি কমছে না। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি পাম্পে দেখা গেছে, পাম্পের ভেতর থেকে শুরু হয়ে যানবাহনের লাইন প্রধান সড়ক পর্যন্ত চলে গেছে। অনেক চালককে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।মোটরসাইকেল চালক মেরাজ হোসেন বলেন, বিকেল ৫টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো তেল পাইনি।গ্রামাঞ্চলেও একই অবস্থা। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কৃষকেরা সেচ পাম্পের জন্য জ্বালানি নিতে পেট্রোল পাম্পে ভিড় করছেন। অনেকেই সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না।বেলকা ইউনিয়নের কৃষক ধীরেন চন্দ্র সরকার বলেন, এখন বোরো ধানক্ষেতে নিয়মিত পানি দিতে হয়। এক দিন পরপর পানি না দিলে ধান শুকিয়ে যেতে পারে। কিন্তু সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যাচ্ছে না।এদিকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের বড় কোনো সংকট নেই। বরং অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় অতিরিক্ত তেল কেনা এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুতের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।গতকাল তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ডিজেল মজুত রয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩৩ টন, অকটেন ২৭ হাজার ৬০২ টন, পেট্রোল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৪ টন এবং জেট ফুয়েল ২১ হাজার ৩৮২ টন।অবৈধ মজুত ঠেকাতে সরকার ইতিমধ্যে অভিযানও শুরু করেছে। ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত এ ধরনের ৫৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৪৭টি মামলায় মোট ১ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার ৭১৫ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। সূর্য উঠলেই অসহনীয় গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। তবে এই কষ্ট সবার জন্য এক নয়। রাজধানী ঢাকায় অধিকাংশ বাড়ি ও অফিসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকলেও গ্রামাঞ্চলের চিত্র একেবারেই ভিন্ন।ফরিদপুরের কৃষক রহিম উদ্দিনের মতো অনেকেই দিনের পর দিন লোডশেডিংয়ে ভুগছেন। টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সেচপাম্প বন্ধ, জমির ধান শুকিয়ে যাচ্ছে। ঘরের ভেতর গরমে শিশু কাঁদছে, পাশে জ্বলছে মোমবাতি। একই সময়ে ঢাকার অনেক বাসায় চলছে একাধিক এসি।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিনই ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে।এই ঘাটতির বড় অংশই বইছে গ্রামাঞ্চল। আগের বছরগুলোর হিসাব বলছে, মোট লোডশেডিংয়ের বেশিরভাগটাই পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এলাকায় হয়েছে। অর্থাৎ গ্রামের মানুষই বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকছেন।খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকাকে প্রায় লোডশেডিংমুক্ত রাখার একটি অঘোষিত সিদ্ধান্ত রয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে—রাজনৈতিক চাপ, শিল্পকারখানা, সরকারি দপ্তর ও গণমাধ্যমের নজর রাজধানীকেন্দ্রিক।তবে এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি। সেচ বন্ধ থাকায় ফসল নষ্ট হচ্ছে, ছোট ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী রাতে পড়াশোনা করতে পারছে না। হাসপাতালেও সেবা ব্যাহত হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার মূল কারণ শুধু উৎপাদন ঘাটতি নয়। গ্যাস সংকট, জ্বালানি আমদানির অনিশ্চয়তা এবং দুর্বল সঞ্চালন ব্যবস্থাও বড় কারণ। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও জ্বালানির অভাবে সেগুলো পুরো ক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।তারা আরও জানান, বিদ্যুৎ বণ্টনে স্বচ্ছতা নেই। কোথায় কখন লোডশেডিং হবে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষ আগে থেকে জানেন না।সমাধানের জন্য কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—সব এলাকায় সমানভাবে লোডশেডিং বণ্টন, কৃষিখাতে বিদ্যুতের অগ্রাধিকার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সঞ্চালন ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা চালু করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ এখন আর শুধু আরামের বিষয় নয়। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই বিদ্যুতের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা জরুরি।
রোনো রাউটারকে Access Point (AP) Mode এ চালিয়ে ইথারনেট কেবলের মাধ্যমে মূল রাউটারের সঙ্গে যুক্ত করুন। এতে নেটওয়ার্কের গতি ও স্থায়িত্ব বেশি থাকবে। এর জন্য রাউটার রিসেট করে, ফার্মওয়্যার আপডেট করে, LAN থেকে WAN-এ কেবল সংযোগ দিয়ে ওয়েব সেটিংসে গিয়ে AP মোড চালু করতে হবে। ২. রিপিটার মোডে তারহীন সংযোগ যদি তার টানার সুযোগ না থাকে, তাহলে রিপিটার মোড ব্যবহার করুন। এতে পুরোনো রাউটার মূল ওয়াই-ফাই সংকেত ধরবে এবং নতুন নামে পুনঃসম্প্রচার করবে। তবে মনে রাখবেন, এতে ইন্টারনেটের গতি কিছুটা কমে যায়-প্রায় অর্ধেক হতে পারে। ৩. প্রতিটি রাউটারের পদ্ধতি আলাদা হতে পারে সব রাউটার AP বা রিপিটার মোড সমর্থন করে না। তাই রাউটারের ইউজার ম্যানুয়াল বা নির্মাতার ওয়েবসাইট থেকে নির্দেশনা দেখে নিতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে থার্ড পার্টি ফার্মওয়্যার (যেমন: DD-WRT) ব্যবহার করেও বাড়তি ফিচার চালু করা সম্ভব।
অন্যদিকে একই বয়সি ছেলেদের ক্ষেত্রে এ হার মাত্র প্রতি ১০ জনে একজন। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাজ্যের পাবলিক হেলথ ওয়েলস (PHW) ও কার্ডিফ ইউনিভার্সিটি।গবেষণায় দেখা গেছে, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েরাই সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। দশম শ্রেণির ১৪-১৫ বছর বয়সি ২১ শতাংশ মেয়ে এবং নবম শ্রেণির ১৩-১৪ বছর বয়সি ২০.৫ শতাংশ মেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে জানায়। ছেলেদের ক্ষেত্রে একই বয়সে এ হার যথাক্রমে ১০.১ এবং ৯.৮ শতাংশ। ১৩ বছর বয়সি লয়েস জানায়, ‘কখনো কখনো শুধু সময় কাটানোর জন্য ফোন হাতে নিই। কিন্তু বুঝতেই পারি না কখন দুই ঘণ্টা পেরিয়ে যায়! এটা মাঝেমধ্যে ভয় পাইয়ে দেয়।’ গবেষণায় অংশ নেওয়া অনেকে জানিয়েছে, খেলাধুলা বা শখের কাজ বাদ দিয়ে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় দিচ্ছে।পিএইচডব্লিও-এর স্বাস্থ্য উন্নয়ন পরামর্শক এমিলি ভ্যান দে ভেনটার জানান, মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় বেশি সময় রাতেও ডিভাইস ব্যবহার করে এবং বেশি রিপোর্ট করে যে তারা সাইবার বুলিয়িংয়ের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু সুবিধা থাকলেও টিনএজারদের মানসিক স্বাস্থ্যর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও আত্মমূল্যায়নের ঘাটতির পেছনে এটি একটি বড় ভূমিকা রাখছে।’ তিনি আরও পরামর্শ দেন, রাতে ডিভাইসের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, ঘুমানোর ঘরে ফোন না রাখা এবং ঘুমের আগে সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশ না করার অভ্যাস তৈরি করলে সমস্যা কিছুটা কমে আসতে পারে। জরিপটিতে সপ্তম থেকে একাদশ শ্রেণির প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এটি কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, সম্পর্ক, স্কুল জীবন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের নানা দিককে ঘিরে সবচেয়ে বৃহৎ ও তথ্যবহুল জরিপগুলোর একটি
দেশের বন্দরে একের পর এক জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ভিড়ছে। কিন্তু ডিপোর ট্যাঙ্ক প্রায় পূর্ণ থাকায় সব জাহাজ থেকে তেল খালাস করা যাচ্ছে না। ফলে কয়েকটি জাহাজ তেল নিয়ে সাগরে অপেক্ষা করছে বলে জানা যায়।অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মানুষকে। অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না পর্যাপ্ত জ্বালানি।বন্দর সূত্র জানায়, বর্তমানে পাঁচটি জাহাজে প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার টন জ্বালানি তেল দেশে এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার টন ডিজেল এবং ২৭ হাজার টন অকটেন রয়েছে। এরই মধ্যে দুটি জাহাজ থেকে প্রায় ৬৮ হাজার টন ডিজেল খালাস শুরু হয়েছে। ডলফিন জেটিতে নোঙর করা এমটি ওকট্রি থেকে প্রায় ৩৫ হাজার টন এবং এমটি কেপ বনি থেকে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল নামানো হচ্ছে।এ ছাড়া এমটি লিয়ান সং হু প্রায় ৪১ হাজার টন ডিজেল, এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল এবং এমটি নেভি সিয়েলো প্রায় ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে বাংলাদেশের জলসীমায় অবস্থান করছে।তবে ডিপোগুলোর সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে তেল সংরক্ষণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা মেইন পয়েন্ট ইনস্টলেশনে তিনটি বিতরণ কোম্পানি ও ইস্টার্ন রিফাইনারির অকটেন সংরক্ষণ ট্যাঙ্ক প্রায় ভরে গেছে। ফলে নতুন করে অকটেন খালাসের আগে অন্য ট্যাঙ্ক খালি করার চেষ্টা চলছে।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য বলছে, দেশে মোট অকটেন সংরক্ষণ সক্ষমতা ৫৩ হাজার ৩৬১ টন। গত ২০ এপ্রিল পর্যন্ত বিপিসির হাতে ছিল প্রায় ২৭ হাজার ৬১২ টন অকটেন। বর্তমানে আরও ২৭ হাজার টন অকটেন খালাসের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশে ২০ হাজার ৪০৪ টন অকটেন বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে বিক্রি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৩৪ টন। এই হিসাবে বর্তমান মজুত ও জাহাজে থাকা তেল মিলিয়ে অন্তত দুই মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।শুধু আমদানি নয়, দেশীয় বেসরকারি শোধনাগার থেকেও জ্বালানি সরবরাহ চলছে। চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ হাজার ১৭০ টন অকটেন সংগ্রহ করেছে বিপিসি। সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান বলছে, দেশে জ্বালানির বড় কোনো ঘাটতি নেই।তবুও পেট্রোল পাম্পে মানুষের ভোগান্তি কমছে না। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি পাম্পে দেখা গেছে, পাম্পের ভেতর থেকে শুরু হয়ে যানবাহনের লাইন প্রধান সড়ক পর্যন্ত চলে গেছে। অনেক চালককে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।মোটরসাইকেল চালক মেরাজ হোসেন বলেন, বিকেল ৫টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো তেল পাইনি।গ্রামাঞ্চলেও একই অবস্থা। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কৃষকেরা সেচ পাম্পের জন্য জ্বালানি নিতে পেট্রোল পাম্পে ভিড় করছেন। অনেকেই সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না।বেলকা ইউনিয়নের কৃষক ধীরেন চন্দ্র সরকার বলেন, এখন বোরো ধানক্ষেতে নিয়মিত পানি দিতে হয়। এক দিন পরপর পানি না দিলে ধান শুকিয়ে যেতে পারে। কিন্তু সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যাচ্ছে না।এদিকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের বড় কোনো সংকট নেই। বরং অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় অতিরিক্ত তেল কেনা এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুতের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।গতকাল তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ডিজেল মজুত রয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩৩ টন, অকটেন ২৭ হাজার ৬০২ টন, পেট্রোল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৪ টন এবং জেট ফুয়েল ২১ হাজার ৩৮২ টন।অবৈধ মজুত ঠেকাতে সরকার ইতিমধ্যে অভিযানও শুরু করেছে। ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত এ ধরনের ৫৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৪৭টি মামলায় মোট ১ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার ৭১৫ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। সূর্য উঠলেই অসহনীয় গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। তবে এই কষ্ট সবার জন্য এক নয়। রাজধানী ঢাকায় অধিকাংশ বাড়ি ও অফিসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকলেও গ্রামাঞ্চলের চিত্র একেবারেই ভিন্ন।ফরিদপুরের কৃষক রহিম উদ্দিনের মতো অনেকেই দিনের পর দিন লোডশেডিংয়ে ভুগছেন। টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সেচপাম্প বন্ধ, জমির ধান শুকিয়ে যাচ্ছে। ঘরের ভেতর গরমে শিশু কাঁদছে, পাশে জ্বলছে মোমবাতি। একই সময়ে ঢাকার অনেক বাসায় চলছে একাধিক এসি।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিনই ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে।এই ঘাটতির বড় অংশই বইছে গ্রামাঞ্চল। আগের বছরগুলোর হিসাব বলছে, মোট লোডশেডিংয়ের বেশিরভাগটাই পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এলাকায় হয়েছে। অর্থাৎ গ্রামের মানুষই বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকছেন।খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকাকে প্রায় লোডশেডিংমুক্ত রাখার একটি অঘোষিত সিদ্ধান্ত রয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে—রাজনৈতিক চাপ, শিল্পকারখানা, সরকারি দপ্তর ও গণমাধ্যমের নজর রাজধানীকেন্দ্রিক।তবে এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি। সেচ বন্ধ থাকায় ফসল নষ্ট হচ্ছে, ছোট ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী রাতে পড়াশোনা করতে পারছে না। হাসপাতালেও সেবা ব্যাহত হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার মূল কারণ শুধু উৎপাদন ঘাটতি নয়। গ্যাস সংকট, জ্বালানি আমদানির অনিশ্চয়তা এবং দুর্বল সঞ্চালন ব্যবস্থাও বড় কারণ। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও জ্বালানির অভাবে সেগুলো পুরো ক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।তারা আরও জানান, বিদ্যুৎ বণ্টনে স্বচ্ছতা নেই। কোথায় কখন লোডশেডিং হবে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষ আগে থেকে জানেন না।সমাধানের জন্য কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—সব এলাকায় সমানভাবে লোডশেডিং বণ্টন, কৃষিখাতে বিদ্যুতের অগ্রাধিকার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সঞ্চালন ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা চালু করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ এখন আর শুধু আরামের বিষয় নয়। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই বিদ্যুতের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা জরুরি।
শুক্রবার (২৩ মে) রাত ১.৩০ মিনিটে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর হাসনাইন এবং বিএসএফের পক্ষে ভারতীয় ৩ বিএসএফ ব্যাটলিয়নের এসি এসএইচএল সিমতি নেতৃত্ব দেন।এছাড়াও পতাকা বৈঠকের সময় নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাছেন আলী, ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম, ইউপি সদস্য মহির উদ্দিন বালারহাট বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার সাইদুর রহমানসহ বিজিবি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ভারত থেকে ফেরত আসা তাজুল, রবিউল, রুমি ও তানেকা বেগম জানান, তারা প্রায় ২৪/২৫ বছর আগে ভারতে কাজের সন্ধানে যান। কয়েকদিন থেকে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশিদের গ্রেফতার শুরু করলে তারা ভারতের হরিয়ানা প্রদেশের রেওয়ারী মার্কেটের রামপুরা থানার প্রজাপতি ইটভাটা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসার সময় বিএসএফের কাছে আটক হন। লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর হাসনাইন জানান, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ২৪ বাংলাদেশিকে ফেরত আনার কথা নিশ্চিত করেন।
শনিবার যশোর শহরের মণিহার মোড় ফলপট্টি এলাকায় শামস মার্কেটের দোতলা থেকে নিহত সুলতানার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বজনরা জানায়, রুমি ও শেখ শাহজাহান দম্পতি তিন মাস বয়সি শামসকে খুলনা থেকে দত্তক আনেন। শেখ শাহজাহান বছর আট আগে মারা গেছেন। ফলপট্টি এলাকায় তাদের বিশাল একটি মার্কেট রয়েছে, যার দোতলায় রুমি ও শামস থাকতেন। জাকির হোসেন নামে মার্কেটের একজন দোকানি জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি দোতলায় গিয়ে চাচিকে খোঁজ করেন। কেননা নিচে তিনি পানি পাচ্ছিলেন না। সে সময় ঘরের ভিতরে শামস ছিলেন। তিনি তাকে জানান, মা বাড়ি নেই খুলনায়। দুপুরে ফের খোঁজ নিতে গেলে শামসের কথায় তার সন্দেহ হয়। তখন তিনি মার্কেটের আরও কয়েকজনকে ডাকেন। এরপর ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশে জানানো হয়। পুলিশ অনেক জোরাজুরির পর দরজা খুললে দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে রয়েছেন রুমি। শরীরের নিচে রক্তের ধারা। এরপর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত বলেন, ওই নারীকে খুন করা হয়েছে। তার মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পালিত ছেলে বর্তমানে পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। কী কারণে, কে বা কারা এই খুনে জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।